ন্যায় বিচার চেয়ে আবারক আলী’র সংবাদ সম্মেলন

ন্যায় বিচার চেয়ে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিলেটের বিশ্বনাথ বিএনপির সহসভাপতি ও দৌলতপুর ইউনিয়নের প্রাক্তণ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আবারক আলী। বৃহস্পতিবার (১৩জুন) দুপুরে প্রতিপেক্ষর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এলাকাবাসীসহ সকল মহলের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমির আলী কর্তৃক ঘোষিত প্রতারক আহমদ আলীর কাছ থেকে তার পাওনা আদায়েও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ আদালতের কাছে ন্যায়বিচারও চেয়েছেন আবারক আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সিঙ্গেরকাছ পশ্চিমগাঁওয়ের বাসিন্দা আবারক আলী বলেন, সিঙ্গেরকাছ পাবলিক বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের তিনবারের নির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি ও সিঙ্গেরকাছ আলীম মাদরাসার দাতা সদস্য এবং সিঙ্গেরকাছ বাজার জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্বে থেকে সমাজের উন্নয়নে কাজ করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে প্রতিপক্ষ আহমদ আলী তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশসহ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেবুল আহমদের কোন মামলা না হলেও সেবুলকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বনানো হয়েছে। পুলিশ আহমদ আলীর দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সঙ্গে তার ছবিও ছাপা হয়েছে এবং ৮টি মামলায় অভিযুক্ত বলা হয়েছে। অথচ, রাজনৈতিক সবক’টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন এবং ২টি মামলা বিচারাধীন আছে। ‘এছাড়া ওই সংবাদে আরও বলা হয়েছে আবারকের মালিকানাধীন ৬টি দোকানকোঠা রয়েছে। মূলত ৭টি দোকানের মালিক তিনি যা ক্রয়সূত্রে মালিকানা পেয়েছেন।

আবারক আলী আরও বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী তার স্ত্রীর বড়বোনের ছেলে এবং আহমদ আলীর ছোট ভাইয়ের কাছে তার (আবারকের) মেয়ে বিয়ে দেওয়ায় আত্মীয়তার সূ-সম্পর্ক রয়েছে।

‘২০০৯ সালে পিতা মারা যাওয়ার পর আবারক আলীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন আহমদ আলী। সে সময় আহমদ আলীর মালিকানাধীন সিঙ্গেরকাছ বাজারে থাকা দুতলা বাসা এবং ২টি দোকানকোঠা তার কাছে বিক্রি করতে চান।

এ সময় ব্র্যাক ব্যাংকে চলমান আহমদ আলীর একটি লোন এর কিস্তি প্রতিমাসে তিনি পরিশোধের দায় নেন। পরিশোধের পরিমাণ যখন দেড়কোটি টাকা হবে তখন আহমদ আলী তাকে জমিসহ দোকানকোঠা রেজিস্ট্রি করে দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরআগেও ব্যাংক মারফতে লেনদেন বাবদ আহমদ আলীর কাছে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল আবারক আলীর। একপর্যায়ে আহমদ আলীর নামে পূবালী ব্যাংক সিঙ্গেরকাছ শাখা থেকে ৩৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩২৬ টাকার একটি পে-অর্ডার প্রদান করেন আবারক। তার নেওয়া ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা হতে লোন-এর কিস্তি প্রতিমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তিনি ৫৫টি পেমেন্টের মাধ্যমে ৭৭ লক্ষ ২৪ হাজার ২৫৫ টাকা জমা দেন। এই টাকাসহ সর্বমোট তিনি আহমদ আলীকে এক কোটি ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৮১ টাকা লোন পরিশোধ করা শেষে দুতলা ভবন ও ২টি দোকানকোঠা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বলা হলে আহমদ আলী তখন টালবাহানা করেন। অবশেষে নিরুপায় হয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির আলী এবং ইউপি সদস্য ইরণ মিয়া, নূর উদ্দিন, গোলাম হোসেন, আবদুল মজিদসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচারপ্রার্থী হন আবারক।

সালিশানগণ তখন উভয়পক্ষকে ডেকে দুপক্ষের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা করে জামানতের চেক গ্রহণ করেন। এরপর তারা পরপর চারবার উভয়পক্ষকে সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ করেন। আবারক আলী সবকটি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও আহমদ আলী কোনো বৈঠকেই উপস্থিত হননি। ফলে ইউপি চেয়ারম্যান সালিশানদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আহমদ আলীকে প্রতারক হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর আহমদ আলী, তার ভাইগণ ও তার ছেলেরা ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে আবারক আলীর এক ছেলের বাসায় হামলা করে। তখন তার ছেলেকে সেখানকার পুলিশ আটক করে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open