ক্যাব যুব গ্রুপের উদ্যোগে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী ও ধুমপানের বিজ্ঞাপন বিরোধী প্রচারণা কর্মসূচি

তরুন জনগোষ্ঠি, আজকে যারা ছাত্র ও যুব, আগামিতে তারাই পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্রের গুরুর্ত্বপূর্ন দেশের দায়িত্বভার নিবে। কিন্তু তারা যদি সমাজে চলমান অনিয়ম, ভোগান্তি, প্রতারনা ও সমস্যাগুলি সম্পর্কে সম্যক অবহিত না হয়, তাহলে পেশাগত জীবনে অথবা ব্যক্তিগত জীবনে এই সমসস্যাগুলি থেকে উত্তরণের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হবে।

তাই দেশের তরুন জনগোষ্ঠিকে দেশ ও জাতিগঠনমুলক স্বেচ্ছাসেবী সমাজ পরিবর্তন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরী। তারই অংশ হিসাবে ভোক্তা অধিকার, খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান ও ধুমপানের বিজ্ঞাপন বিরোধী প্রচারনা কর্মকান্ডে তরুন জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ লক্ষে প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যাব যুব গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

০৫ মে ২০১৯ইং নগরীর ক্যাব বিভাগীয় কার্যালয়ে ক্যাব যুব গ্রুপের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কে এন এম রিয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। ক্যাব ডিপিও জহুরুল ইসলাম সভায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও ধুমপানের বিজ্ঞাপন বন্ধে করনীয় নিয়ে মাল্টি মিডিয়া উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশনেন নারী নেত্রী শাহিন আক্তার বিউটি, ক্যাব ডিপিও শম্পা কে নাহার, যুব গ্রুপের নেতা তরুন সমাজকর্মী নিপা দাস, জাহেদুল ইসলাম, তীর্থ নাগ, অনিক রয়, জিয়াউল মোস্তফা খান প্রমুখ।

সভায় বলা হয় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সবকটি আন্দোলনে তরুন সমাজ নেতৃত্ব প্রদান করলেও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে তরুনদেরকে ব্যবহার করে একটি গোষ্টি নিজেদের ফায়দা হাসিলের কারনে তরুন সমাজ বিভ্রান্ত হয়ে দেশে ও জাতি গঠনমুলক কাজ থেকে বিমুখ হয়ে আছে। সেকারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া মহল্লায় এখন আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চর্চা ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ গুলি বিকশিত হচ্ছে না। যার কারনে তরুনরা বিপথগামী হচ্ছে।

অন্যদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতির আগ্রাসনে পড়াশুনা শেষ না করতেই তরুনদের নানা লোভনীয় অফার দিয়ে খন্ডকালীন চাকুরী দেয়া হলেও পরক্ষণে তার জবনিকা ঘটে।

পরবর্তীতে এর সর্বশেষ পরিনতি হয় অকালে সম্ভাবনাময় অনেক জীবন নস্ট হয়ে যায়। তাই পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষতা উন্নয়নে প্রযোজনীয় জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই।

অরিয়েন্টেশনে বলা হয় সরকার আগামি ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে ধুমপান নিমূর্লে উদ্যোগ নিয়েছে। মাদক-ইয়াবা সেবনের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু ধুমপান হলো মাদক সেবন শুরুর প্রথম রাস্তা। সেকারনে জনবহুল স্থান বিশেষ করে হাসপাতাল, আদালত প্রাঙ্গন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাস-ট্রেন স্টেশনে ধুমপান ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও আইনের কার্যকারিতা নাই। বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যে বিড়ি-সিপারেট, পান জর্দা বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। এমনকি জর্দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিককে রাস্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান, রাস্ট্রীয় অর্থায়েন নির্মিত ছবিতে ধুমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।

নতুন নতুন ধুমপায়ী সৃষ্ঠি করতে তামাক কোম্পানী গুলি নানা উপটৌকন ও প্রণোদনা দিচ্ছে। বিষয়গুলি দেখার জন্য কেউ নেই। প্রাণঘাতি এ ধুমপান বন্ধ হলে চিকিৎসা খাতে রাস্ট্রীয় অনেক অর্থ স্বাশ্রয় হতো।বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open