হবিগঞ্জের নদী সহ অন্যান্য নদী সংরক্ষনের আশ্বাস দিয়েছেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে দেখা করে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী, পুরাতন খোয়াই, সুতাং নদীসহ অন্যান্য নদী সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার। উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। সাথে সাথে নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় তার ভূমিকা থাকবে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৪ মে) হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে বাপা ও খোয়াই ওয়াটারকিপার এর একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন।

বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়, উজানে ভারত সরকারের পানি সীমিতকরণ, দেশের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী দ্বারা দখল, খনন না হওয়া ইত্যাদি কারণে খোয়াই নদীর ধারা দিন দিন ক্ষীণতর হয়ে যাচ্ছে। খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে স্থানে স্থানে চড়া পড়েেছ।

শহরের সবচেয়ে নিচু স্থানটি থেকেও নদীর তলদেশে প্রায় ১২/১৫ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছে। এতে নদীতে ঘিরে থাকা শহর রয়েছে হুমকির সম্মুখীন আর নদীর অপর পাড়ের গ্রাম ও ফসলি জমিকে সহ্য করতে হচ্ছে ভাঙ্গনের আঘাত। এছাড়া ভূমি দখলকারীদের অবৈধ দখলের কারণে পুরাতন খোয়াই নদী বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে। ফলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশ বিপর্যয় হুমকীস্বরূপ। পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম পুরাতন খোয়াই নদী দখল-ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এলাকার জনগণকে ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত পানির সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে হবিগঞ্জ সদর ও মাধবপুর উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাঝারি ও বৃহৎ কল-কারখানা। কারখানার বর্জ্যে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটিয়ে আসছে। কৃষিজমি, খাল, ছড়া এবং নদীসহ সকল প্রকার জীবন ও জীবিকা শিল্পদূষণের শিকার হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় হাঁস-মোরগ, গৃহপালিত পশুর মৃত্যুসহ নানা রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। যা কৃষিজমি ধ্বংস ও ফসলের ক্ষতি, নিরাপদ পানির অভাবসহ মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। কোম্পানির বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সুতাং নদী।

বাপার পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে খোয়াই নদী খনন করে নদীর তলদেশ গড় উচ্চতা থেকে কমপক্ষে দশফুট গভীরে নেয়া, বাঁধের দুর্বল ও ক্ষয়ে যাওয়া অংশগুলো মেরামত এবং বাঁধের উভয় পাড়ের সকল অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা, খোয়াই নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধ করা এবং নদীর তীরে নিক্ষিপ্ত বর্জ্য অপসারণ করে বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ করা, অবিলম্বে পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা, এই নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দখলকারীদের মাধ্যমে ভরাট অংশের মাটি সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীর পাড়ে ঘাষ লাগানো, গাছ রোপন, মানুষের বসার স্থান নির্মাণ করা, কৃষিজমি বিনষ্ট করে কোন ধরণের কল-কারখানার অনুমোদন না দেওয়া এবং যে সকল কল-কারখানা ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে এগুলোর ‘উৎসে বর্জ্য পরিশোধন’ ব্যবস্থা (ইটিপি) নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা এবং পরিবেশ দূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুতাং নদী পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাসহ এলাকাবাসীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

বাপা সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদ এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাপা হবিগঞ্জের সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, নদী জলাশয় ও পুকুর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব আহসানুল হক সুজা, বাপা সদস্য এডভোকেট বিজন বিহারী দাস, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।বিজ্ঞপ্তি

Loading...