প্যারোলে ‘মুক্তি পেতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন


সুরমা টাইমস ডেস্ক ঃঃ সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মন্তব্য করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চান, আর সরকার যদি অনুমতি দেয় তা হলে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে । তবে সে ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা এবং তার (খালেদা জিয়া) তা চাইতে হবে বলেও জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের নিজ চেম্বারে রোববার (৩১ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বেও দেখেছি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিনিও কিন্তু প্যারোলে গিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করে এসেছেন। আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্যারোলে গিয়েই চিকিৎসা নিয়েছেন। অতঃএব প্যারোল সম্পর্কে এ ধরনের বিভ্রান্তি থাকার জন্যই আজকে আপনাদের কাছে এমন বক্তব্য দিচ্ছি।’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্যারোল চাইবেন কি না সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন কারাগারে থাকা দণ্ডিত বা হাজতি যে কোনো ব্যক্তি প্যারোল চাইলে সরকার যদি তাকে প্যারোল দেয় তা হলে যেকোনো আসামিই মুক্তি পেতে পারেন।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, যখন একটি লোক চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তার চিকিৎসা দরকার। আর আইন অনুযায়ী আদালতে জামিন পেতে তার অনেক সময় লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইচ্ছা করলে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য দিতে পারেন। বিশেষ কারণেও দিতে পারেন।

তিনি বলেন, সরকার কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে ২০১৬ সালের ১ জুন যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, সেখানে সাজাপ্রাপ্তসহ সবাই প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। সাধারণ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেলা প্রশাসক দিতে পারেন। বিশেষ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে যে কোনো ব্যক্তিকে যে কোনো দিন যত দিন খুশি প্যারোলে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে টানা এক মাস দুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open