আগুনে পুড়ে আবারো ফকির হলেন নোয়াখালীর ফকির

সুরমা টাইমস ডেস্ক ঃঃ মাত্র ২৬ মাস আগে গুলশান-১ এর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মার্কেটে লাগা আগুন নিঃস্ব করেছিল নোয়াখালীর ফকির আহমেদকে। ওই সময়ে ৬০ লাখ টাকার দোকানের জিনিস পুড়ে ছাই হয়েছিল তার। এরপর ধার দেনা করে চালু করেছিলেন নোয়াখালী বুনিয়াদি স্টোর নামের মসলার দোকানটি।

কিন্ত আজ শনিবার ভোরে লাগা আগুন আবার পুড়ে ছারখার করেছে সেই দোকান। কিছু ছাই ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই দোকানে। চোখ মুছতে মুছতে বার বার সেই ছাইয়ের মধ্যেই কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। বাবার এমন অবস্থা দেখে পাশে দাড়িয়ে কান্না করছেন তার ছেলেমেয়েরাও৷

ফকির আহমেদ বলেন, ‘আপনারা তো জানেন ভাই, গতবার আমার দোকানসহ গোডাউন সবই পুড়ে শেষ হয়েছিল। এবারও আর কিছুই রইলো না। গতবারের আগুনে সব মিলে আমার ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। অনেক ধার দেনা করে আবারও চালু করেছিলাম দোকানটি। এবারের আগুনেও সব গেল। ২০ লাখ টাকার জিনিস ছিল, নিজেই দেখুন আর কিছু নেই।’

ফকির আহমেদ আরও বলেন, ‘আমার ২ ছেলে, এক মেয়ে সবাই এই ব্যবসার দিকে তাকিয়ে ছিল। সংসার চলবে কেমনে আল্লাহ জানে৷’ ২০১৭ সালেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন এই দোকানি। সেই সময়ে ফকির ও তার ছেলের বুকফাটা আর্তনাত কাঁদিয়ে ছিল সবাইকে।

গুলশান-১ এর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মার্কেটে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে ২৯১টি দোকান। এসব দোকানের মধ্যে আছে বুনিয়াদি, কাঁচামাল, চালের দোকান সহ অনেকে নিত্যপণ্যের দোকান। আগুন সবই পুড়ে ছাই বানিয়ে দিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পোড়া ছাইয়ে শেষ সম্বল টুকি খোঁজার চেষ্টা করেছেন দোকান মালিকেরা।

বেলা ১১টার পরে থেকে নিজ নিজ দোকানে প্রবেশ করে শুধু ছাই ছাড়া আর কিছুই মিলছে না তাদের ভাগ্যে। কেউ কেউ ছাইয়ের মধ্যে পড়ে থাকা সামান্য জিনিস পত্র কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার কুড়িয়ে নেওয়ার মতোও কিছু পাচ্ছেন না। তাই পোড়া ছাইয়ের ওপরে বসে কান্নাকাটি করেছেন অনেক দোকানি।

একই অবস্থা মার্কেটের পুরে যাওয়া প্রায় সকল দোকানির। শনিবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যারা। পরে সকাল পৌনে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘গুলশান ১ এ ডিএনসিসি’র কাঁচাবাজার ও সুপার মার্কেটের আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলতে।’

এর আগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছিল গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট। তখন দোতলা মূল বিপণি বিতানের পাশের কাঁচাবাজারও সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। তারপর ওই বাজারটি নতুন করে গড়ে তোলার দুই বছরের মধ্যে আবার তা পুড়ে গেল।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close