‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩১তম সিলেট বিভাগীয় জন্মমহোৎসব’

সৎসঙ্গ শ্রীমন্দির আগরতলা ভারতের ইনচার্জ এসপিআর শ্রীনিশীথ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘যুগপুরুষোত্তম পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সকল মানুষকে সুন্দর ও শান্তির পথে বাঁচার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নির্দেশিত আলোকিত পথে চললে জীবন হবে সুশৃঙ্খল ও শান্তিময়। এতে করে সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠন আরো সহজ হবে।’

তিনি বলেন, ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ও নির্দেশিত জীবনবিধান বর্তমান অস্থির সমাজকে কল্যাণ ও শান্তির পথে চলতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনুকূলচন্দ্রের নির্দেশিত পথে চললে সমাজ হবে আলোকিত। ইহকালীন ও পরকালীন শান্তির জন্য ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকূলল চন্দ্রের চরণাশ্রয় গ্রহণ করা দরকার।’

তিনি শুক্রবার (০৮ মার্চ) বিকেল ৩টায় সিলেট নগরীর করেরপাড়াস্থ সৎসঙ্গ পল্লীতে যুগপুরুষোত্তম পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩১তম সিলেট বিভাগীয় জন্মমহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত “শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যজীবন ও আচার্য্য পরম্পরা” শীর্ষক ধর্মসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ধর্মসভায় সভাপতিত্ব করেন এসপিআর শ্রীরামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য। ধর্মসভায় অ্যাডভোকেট পংকজ দাসের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩১তম সিলেট বিভাগীয় জন্মমহোৎসব উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলক কান্তি দত্ত।

ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ-সম্পাদক এসপিআর সুব্রত আদিত্য, শ্রীহট্ট সৎসঙ্গ বিহার সিলেটের ইনচার্জ অধ্যাপক আশুতোষ দাস, অ্যাডভোকেট সুনীল দাস, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩১তম সিলেট বিভাগীয় জন্মমহোৎসব উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দুর্গেশ রঞ্জন দত্ত, এসপিআর অরূপ চক্রবর্তী, এসপিআর সুকুমার দাস, এসপিআর বিকাশ চন্দ্র কর্মকার, ডা. ললিত মোহন নাথ, যুবলীগ সিলেট জেলা শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুদীপ দেব ও অ্যাডভোকেট দয়াল দাস প্রমুখ।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে যুগ পুরুষোত্তম পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩১তম সিলেট বিভাগীয় জন্মমহোৎসব উপলক্ষে সিলেট নগরীর করেরপাড়াস্থ সৎসঙ্গ পল্লীতে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী ও শিষ্যর মহামিলন মেলা ঘটে। সকল বয়সী মানুষের সরব পদচারণায় উৎসব অঙ্গন বর্ণিল ও আনন্দ মুখর হয়ে উঠে। উৎসব অঙ্গনে রকমারি পণ্যের জমজমাট মেলা বসে। সন্ধ্যার প্রার্থনার ভারত থেকে আগত বিশিষ্ঠ শিল্পীদের পরিবেশনায় মনমুগ্ধকর সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করের হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা। উৎসব উপলক্ষে ‘ইস্টায়নী’ নামক সৃজনশীল এক প্রকাশনা প্রকাশ করা হয়। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে ছিল ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে সন্ধ্যাকালীন সমবেত বিনতী প্রার্থনা, নামজপ ও সদ্গ্রন্থাদিপাঠ। সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে ধামাইল গীত। রাত ৮টা ১ মিনিটে তুমুল কীর্ত্তন ও রাত ৯টা ১ মিনিটে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার ভোর ৪ টা ৩১ মিনিটে নহবৎ, ভোর ৫টা ১ মিনিটে ঊষা কীর্ত্তন, ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে সমবেত বিনতী প্রার্থনা, নামজপ ও অমিয় গ্রন্থাদিপাঠ, সকাল ৭ টা ১ মিনিটে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, সকাল ৮টা ১ মিনিটে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভাবাদর্শে ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান। সকাল ৯টা ১ মিনিটে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুক‚লচন্দ্রের প্রতিকৃতিসহ নগর পরিক্রমা, সকাল ১১টা ১ মিনিটে যুব সম্মেলন, সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে মাতৃসম্মেলন, বিষয়-‘সুপ্রজননে-নারী ও পুরুষের বৈশিষ্ট্য’। সকাল ১১ টা ৩১ মিনিটে বিনামূল্যে অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিও চিকিৎসা প্রদান এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, দুপুর ১টা ১ মিনিটে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান, দুপুর ১টা ১ মিনিটে সর্বস্তরের ভক্ত ও অনুরাগীবৃন্দের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়, বিকেল ৩ টা ১ মিনিটে ধর্মসভা, বিষয়-‘ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যজীবন ও আচার্য্য পরম্পরা’। সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে সন্ধ্যাকালীন সমবেত বিনতী প্রার্থনা, নামজপ ও সদ্গ্রন্থাদিপাঠ, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৎপর পুরুষোত্তম ধ্বনির মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি। -বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close