জগন্নাথপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মাইকিং

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: জগন্নাথপুরে কুড়িয়ে পাওয়া ৭৮ হাজার টাকা প্রকৃতি মালিকের নিকট হস্তান্তর করতে এলাকায় মাইকিং করে চালিয়েছেন ব্যাপক প্রচারণা। অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মালিকের নিকট টাকাগুলো দিয়ে সততার এক উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাফিজ জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তি।

জিয়াউর রহমান পাটলী ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আশিক আলীর ছেলে।

জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের শেরপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম গত শুক্রবার সকালে উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারে গরুর হাটে যান। হাট চলাকালে তার টাকা রাখার কাপড়ের ব্যাগ (থলে) হঠাৎ করে কোথায় যে পড়ে যায়। ওই দিন দুপুরের দিকে রসুলগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে টাকাগুলো কুড়িয়ে পান হাফিজ জিয়াউর রহমান। টাকা পাওয়ার পর তিনি রসুলগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালান যে, কিছু টাকা পাওয়া গেছে। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হবে। দ্রুত যোগাযোগের জন্য আহবান করা হয়।

এ খবর পেয়ে টাকার প্রকৃত মালিক আব্দুর রহিম ও জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেরপুর এলাকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই কবিরপুর গ্রামে যান। প্রমাণ সাপেক্ষে পাটলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়ার উপস্থিতিতে টাকাগুলো মালিকের নিকট হস্তান্তর করেন।

শেরপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, টাকাগুলো হারিয়ে পাগল প্রায়। এখনও ভালো মানুষ সমাজে আছে। তার দৃষ্টান্ত হাফিজ জিয়াউর রহমান। উনার নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, হাটে থাকাবস্থায় কোমরে থাকা টাকার থলেতে মোট ৭৮ হাজার টাকা রক্ষিত ছিল। ১২টি ৫শত টাকা নোট ও ৭৩টি ১ হাজার টাকার নোট ছিল।

পাটলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান বলেন, হাফিজ জিয়াউল রহমান সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকাগুলো ফিরিয়ে দিতে তিনি বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে প্রচারণা চালান। সত্যিই এটি বিরল ঘটনা।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close