কুলাউড়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই শতাধিক গাছ কর্তনের অভিযোগ

কুলাউড়া প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে মনছড়া এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিরোধপূর্ণ টিলাভূমি থেকে স্থানীয়রা নানা প্রজাতির শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পরে বন বিভাগের লোকজন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করেছেন।

বন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনছড়া মৌজায় (জেএল নম্বর-১০৯) ভিতর মনছড়া এলাকায় ৫৯ নম্বর দাগে ২৯০ একর সরকারি টিলাভূমি রয়েছে। ১৯৬০ সালে ওই জমি সরকার বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। ওই জমির ২৯ দশমিক ৫০ একর জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শফিক আহমদের সঙ্গে সরকারের বিরোধ চলছিল।

সম্প্রতি আদালতের মাধ্যমে শফিক জমির মালিকানা পান। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে এখনো জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। জমির নামজারি করা হয়নি। এ অবস্থায় শফিক বিরোধপূর্ণ জমির বিভিন্ন প্রজাতির ৭০০ গাছ ১১ লাখ টাকায় কুলাউড়ার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের খানের কাছে বিক্রি করে ফেলেন। খায়ের তাঁর লোকজনকে দিয়ে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি শতাধিক গাছ কাটান।

পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছগুলো এলোপাথাড়ি অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুলাউড়া রেঞ্জের মনছড়া বিটের বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে এ বিষয়ে আবুল খায়ের খান, খায়েরের আত্মীয় একই এলাকার বাসিন্দা তোহাসহ গাছ কাটার কাজে জড়িত পাঁচ শ্রমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

এরপর বন বিভাগের লোকজন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ওই দিন সেখান থেকে ২০ খণ্ড কাটা গাছ জব্দ করা হয়। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) একই স্থান থেকে আরও ৯০ খণ্ড কাটা গাছ জব্দ করা হয়।

কুলাউড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মানিক রঞ্জন দে বলেন, যে কোনো জমি থেকে গাছ কাটতে হলে প্রশাসন ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে গাছ কাটা হয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে আবুল খায়ের খানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে খায়েরের বড় ভাই জাবের খান বলেন, খায়ের শারীরিকভাবে কিছু দিন ধরে অসুস্থ। শফিক আহমদের কাছ থেকে ৭০০ গাছ কেনার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। গাছ কাটানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া দরকার ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।

শফিক আহমদ বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটাতে বলেছিলেন। জমির সীমানা নির্ধারণের আগে কিভাবে গাছ বিক্রি করলেন এ প্রশ্নে তিনি নিজের জমি চিনেন বলে দাবি করেন।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close