সব বিভাগে হবে ক্যান্সার হাসপাতাল


সুরমা টাইমস ডেস্ক ঃঃ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব বিভাগে একটি করে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ করবে সরকার।

অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতি বিভাগে ক্যান্সার চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।

সারা দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার ব্যবধান ঘোচাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে এ অঙ্গীকার সংযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার সহজলভ্যতা বিভাগ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারলে সারাদেশের লাখ লাখ মানুষ কম খরচে এই সেবা পাবে।

সোমবার রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি হাসপাতালের লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট, অত্যাধুনিক এমআরআই, সিটি স্ক্যান মেশিন এবং ডে কেয়ার কেমোথেরাপির কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।

ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপিকা ডা. নাসিমা সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন প্রমুখ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জনসাধারণের জীবনাচারণ ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে সচেতনতা বাড়াতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, চিকিৎসক, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভেজালযুক্ত, কৃত্রিম রং মেশানো খাবার পরিহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মানুষের মাঝে কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাসও বাড়াতে হবে। ক্যান্সারসহ অনেক অসংক্রামক রোগের কারণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।

বিএসএমএমইউ : সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকালে বি ব্লকের সামনে বটতলায় থেকে অনকোলজি বিভাগ, শিশু হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল সার্জারি বিভাগের উদ্যোগে সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়।

এ সময় এ সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ক্যান্সার শরীরের সর্বত্রই হতে পারে। তবে এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। এই রোগের বিষয়ে গণমানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। শুরুতে ক্যান্সার নির্ণয় বা চিহ্নিত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নিরাময় করা সম্ভব হয়।

র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলম, শিশু হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিশিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কাজী বিল্লুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ক্যান্সার সোসাইটি, মার্চ ফর মাদারসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে।

Sharing is caring!

Loading...
Open