‘ঝেঁটিয়ে বিদায় হওয়ার চেয়ে অবসর ভালো’- মুহিত

সুরমা টাইমস ডেস্ক :: অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করছেন বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সচিবালয়ে শেষ কর্মদিবসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিজে থেকে বিদায় নেওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘সেটিও এক দিক দিয়ে ভালো যে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে, ঝেঁটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে টানা দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর অবসর চাইছিলেন তিনি। এ জন্য এবার তিনি নির্বাচনও করেননি। অবশ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পরদিন মুহিত বলেছিলেন, শেখ হাসিনা চাইলে আরও কিছুদিন কাজ চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা গতকাল যে সরকার গড়েছেন, তাতে দলের প্রবীণ সব নেতাকে তিনি বাদ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘এটি আমার খুব আনন্দের বিষয়, আমাকে বিদায়-টিদায় করতে হয়নি। আমি নিজে নিজেই বিদায়টা নিয়ে নিয়েছি। সে জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘আমি আগামী ২৫ জানুয়ারি ৮৫ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছি। এ বয়সে আল্লাহ আমাকে এমন রেখেছেন যে আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো একটি জটিল মন্ত্রণালয় একটি জটিল দেশে পরিচালনা করেছি। এখন তো আমার অবসর নেওয়ারই দরকার।’ গত ১০ বছরে বাংলাদেশকে ‘ভিক্ষুকের দেশ’ থেকে উত্তরণ ঘটানোর কৃতিত্ব দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশ এখন বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ বলতে সাহস পায় না। দেশকে এ অবস্থায় উত্তরণে আমার অংশগ্রহণ থাকায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমরা আগামী পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকছি। আগামী পাঁচ বছরে দেশ এমন একটি জায়গায় যাবে, যা রোধ করা সম্ভব হবে না।’

এখন অবসরে বই পড়ে সময় কাটাবেন জানিয়ে বিদায়ী অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কাজ করার মতো ক্ষেত্রের কোনো অভাব নেই। আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে। সবগুলো পড়া হয়নি, এগুলো পড়ব। আর আমি ৩৪টি বই লিখেছি। এর মধ্যে ১২টি ইংরেজি। আরও বই লিখব।’

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সোমবারের বিদায়ী এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম এ মান্নান বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় এত দিন দায়িত্ব পালন করেছি। আগামীতেও দায়িত্ব পালন করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’ অনুষ্ঠানে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদারসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open