বিশ্বনাথে অসামাজিক কার্যকলাপে বাঁধা প্রদান করে আতংকে কলেজ ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ :: সিলেটের বিশ্বনাথে ওরুসের নামে সমাজ বিরুধী অসামাজিক কার্যকলাপে বাঁধা প্রদান করে আতংকের মধ্যে রয়েছেন তাসলিমা বেগম নামের এক কলেজ ছাত্রী। তিনি উপজেলার নওধার (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত ছাবাল শাহ’র কন্যা ও উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর মেয়ের জন্য আতংকের মধ্যে রয়েছেন কলেজ ছাত্রীর মা। অসামাজিক কাজে বাঁধা দেওয়ার কারনে কলেজ ছাত্রীর সৎ ভাই আশিক নূর ও একই গ্রামের সুহেল আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ‘তাসলিমা ও তার মা’কে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপজেলার কোথাও ওরুসের নামে যাতে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ না হয় সেজন্য ওরুস বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে থানা পুলিশকে কঠোর অবস্থানে থাকার দাবী জানিয়ে আসছেন উপজেলাবাসী। আর ওরুসের নামে কেউ যাতে অসামাজিক কর্মকান্ড না করতে পারে সেজন্য ওরুসের নামে এসব কর্মকান্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সেজন্য ওরুসের নামে অসামাজিক কর্মকান্ড শুরুর অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ‘মৃত ছাবাল শাহ’র নামে আয়োজন করা ওরুস পন্ড করে দিয়েছে থানা পুলিশ।

জানা গেছে, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার পূর্বপাড়া গ্রামে ‘ছাবাল শাহ’ নামের ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পুত্র ও স্বজনরা বৎসরে ২ বার ও প্রতি বৃহস্পতিবার ওরুসের আয়োজন করেন। আর এসব আয়োজনে ওরুসে নামে অসামাজিক কার্যকলাপে ভরপুর থাকে। আয়োজকরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারেন না। নিজের পিতার নামে এসব অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম। এজন্য প্রতিনিয়তই কলেজ ছাত্রীকে সহ্য করতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের অত্যাচার-নির্যাতন। এসব কারণে কলেজ ছাত্রী বিশ্বনাথ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম উল্লেখ করেন, তার পিতা আহমদ আলী উরফে ছাবাল শাহ’র মৃত্যুর পর তার সৎ ভাই আশিক নূর ও একই গ্রামের সুহেল আহমদের নেতৃত্বে একটি বাহিনী তৈরী করে তাদের বাড়িতে ওরুসের নামে নাচ গানের আসর বসিয়ে ‘ইয়াবা, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ড্যান্ডি’সহ যাবতীয় মাদক কেনা-বেচা ও সেবন করা হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে দূর-দুরান্ত থেকে কম বয়সী ছেলে-মেয়ে ও নেসাগ্রস্থ লোকজন জড়ো করে গান- বাজনা ও মাদক বিক্রি করে বিপুল পরিমান টাকা রোজগার করছে তারা (আশিক-সুহেল)। এখানে আসা নারীরা পাষবিকতার শিকারও হয়। কেউ এসব কর্মকান্ডে বাঁধা দিলে তাকে নানা ভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হয়রানী করা হয়।

আশিক-সুহেলের এসব অসামাজিক কার্যকলাপে বাঁধা দেওয়ায় চলতি বছরের ৩ জুলাই অভিযুক্তরা তাসলিমাকে মারধর করে গুরুত্বর আহত করে। এব্যাপারে ৭ জুলাই সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ একটি মামলা দায়ের করেন কলেজ ছাত্রী তাসলিমা। যার নং বিশ্বনাথ সি.আর-২১৩/২০১৮ইং। ওই মামলা দায়েরের কারণে অভিযুক্তরা তাসলিমাকে নিজের পৈত্রিক বসতবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ও ১৯ জুলাই রাতে তাসলিমার ঘরের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ধান-চাউল’সহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় এবং ঘরটি তাদের দখল করে নেয়।

এব্যাপারে কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বিশ্বনাথ থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাসলিমার ঘরে অবস্থানকারীদেরকে ঘর থেকে বের করে ঘরটি তালাবদ্ধ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মুরব্বিদের হেফাজতে রেখে আসনে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগীতায় তাসলিমা ও তার মা নিজ ঘরে ফিরেছেন। কিন্তু অভিযুক্তদের হুমকিতে এখনও আতংঙ্কিত কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম ও তার মা নেওয়ারুন নেছা।

তাদের বিরুদ্ধে আনিত কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত আশিক নূর বলেন, আমার পিতা জীবিত অবস্থায় বাড়িতে ওরস চালু করে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরাও করে যাচ্ছি। এখানে মাদক সেবন বা অসামাজিক কোন কার্যকলাপ হয় না। পুলিশ আমাদের নিষেধ করায় আমরা বৃহস্পতিবার ওরুস বন্ধ করে দিয়েছি। তবে কলেজ ছাত্রী তাসলিমা বেগম তার পিতার সন্তান নয় দাবি করে তিনি বলেন ‘সে যে ঘরে থাকে ওই ঘরটি আমার (আশিক)’।

আদালতে ও থানায় কলেজ ছাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত চলছে দাবী করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, তদন্ত শেষে অপরাধের সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে ওরুসের নামে কোন ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ উপজেলার কোথাও কিছুতেই চলতে দেয়া হবে না।

Sharing is caring!

Loading...
Open