দোয়ারাবাজারে শিক্ষিকার অনিয়ম-দূর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় বেতন-ভাতা বন্ধ

ছাতক প্রতিনিধি :: দোয়ারাবাজার উপজেলার রজনী সুগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোকসানা আক্তার পপি’র বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। গত দুই মাস ধরে তার বেতন-ভাতাদি বন্ধ করে দিয়েছে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রসন্ন দেবনাথ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন খাতসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাধের লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে গত জুলাই মাস হতে তার বেতন ভাতাদি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া ওই শিক্ষিকা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশ উপেক্ষা করে চলতি দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার জারীকৃত স্মারকপত্র অনুযায়ী পদায়িত প্রধান শিক্ষক যোগদান করতে গেলে রোকসানা আক্তার পপি দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো তার সঙ্গে অসাদাচারণ করার অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলন বিবি, লিটন চন্দ্র দেবনাথ ও হালিমা বেগম জানান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা আক্তার পপি তাদের চাকুরী জাতীয় করণের নাম করে প্রত্যেকের নিকট থেকে ৯০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। টাকা না দিলে চাকুরী জাতীয় করণ হবেনা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেন। বিদ্যালয়ের সভাপতির লিখিত অভিযোগের পর আমরা অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেয়ায় এখন তিনি আমাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছেন। তিনি ন্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় বাহির হতে আসা শিক্ষকদের নানা ভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহিদ বলেন, গত ২৬ জুন বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে রোকসানা আক্তার পপি তার হেফাজতে থাকা রেজিষ্টার, নথিপত্র ও হাজিরা খাতা তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং আমাকে যোগদানে বাধা দেন। নানা ভাবে তিনি আমার সঙ্গে অসাদারচারণ করেন।

এ ব্যাপারে রোকসানা আক্তার পপি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রধান শিক্ষক। এই ব্যাপারে আদালতে একটি রিট করা আছে। তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ গুলো সঠিক নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু মিয়া বলেন, রোকসানা আক্তার পপি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আতœসাত করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবকরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সামাজিক গন্যমান্য বক্তিগণের সাথেও অসাদাচরণ করেছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close