খালেদা জিয়ার ৭ বছর কারাদন্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

সুরমা টাইমস ডেস্ক::      জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রথম দিনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছর কারাদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলার প্রথম রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

এ সময় তিনি ৩২ জন আসামির সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয় এবং মামলার সারমর্ম তুলে ধরেন আদালতে।

দুদকের এই আইনজীবী বলেন, কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। কারণ তিনি ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ট্রাস্ট গঠনের সময় সোনালী ব্যাংকে যে হিসাব করা হয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়া তার প্রধানমন্ত্রী পদ গোপন করেছেন। কিন্তু তিনি ঠিকানা হিসেবে ব্যহার করেছেন তৎকালীন মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা।’

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ট্রাস্ট আইন ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে চারবার চিঠি দেয়া হলেও তিনি এর কোনো উত্তর দেননি। পরে অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হয়নি। এই অভিযোগে সংবিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।’

মোশাররফ হোসেন কাজল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যে উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট গঠন করেছেন, পরবর্তী সময়ে তা টাকা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তা প্রাইভেট ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হারিস চৌধুরী, পিএস ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না তারাও সরকারি পদে ছিলেন। ট্রাস্টে তারা সরকারি পদ ব্যবহার করতে পারেন না।’

এর আগে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতে হাজির হন তিনি।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির।

গত ২৫শে জানুয়ারি আদালত এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

একই আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close