সিলেটি নাগরীলিপি বই উৎসব কাল : উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী

মারুফ হাসান ::
সিলেটি নাগরীলিপি বই উৎসব আগামীকাল ১৯শে জানুয়ারি, শুক্রবার। নগরীর রিকাবীবাজার সংলগ্ন কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে বিকাল ৩টায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উৎস প্রকাশন-এর আয়োজনে গ্রীণ ডেল্টা ইন্সুরেন্স, জনতা ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনব্যাপী বই উৎসবে থাকবে আজীবন সম্মাননা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, পুথিপাঠ, সংগীতানুষ্ঠান ও মঞ্চ নাটক।

লেখক ও চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ড মসিহ্ মালিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত বই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শাসুজ্জামান খান, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইমিরিটাস অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কবি ও সিলেটি নাগরীলিপি গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক, কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লোকগবেষক ড. আবুল আহসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার, গ্রীণ ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানির উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক কাবেদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম।

উৎস প্রকাশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা সেলিম জানান, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বই উৎসব সফল হবে ইনশাল্লাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা অনুষ্ঠান, আজীবন সম্মাননা প্রদান, পুথিপাঠ, সংগীতানুষ্ঠান, মঞ্চনাটক প্রদর্শনী সহ আরো নানা আয়োজনে শুক্রবার নজরুল অডিটরিয়াম এবং তার বহিরঙ্গন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। সেলিম জানান, নাগরীলিপি বই উৎসবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অধ্যাপক এরহাসুজ্জামান।
এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সকলকে দেওয়া হবে প্রতীকী উপহার নাগরীলিপির বই। প্রায় ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণগ্রন্থাগারে তুলে দেওয়া হবে নাগরীলিপিতে রচিত পঁচিশটি গ্রন্থের ‘নাগরী গ্রন্থসম্ভার’। সকলকে বই উৎসবে যোগ দিয়ে আয়োজনকে সফল ও স্বার্থক করার আহ্বান জানান মোস্তফা সেলিম।

উল্লেখ্য, সিলেট ও তার আশপাশের এলাকা আসাম, শিলচর, ত্রিপুরা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা অঞ্চলে বাংলালিপির পাশাপাশি সিলেটি নাগরীলিপির প্রচলন ছিল দীর্ঘকাল শতাব্দীর পর শতাব্দী। এ -লিপিতে সাহিত্য রচনা করেছেন সৈয়দ শাহনূর, শিতালং শাহ্, আরকুম শাহ্ দীন ভবানন্দ, শেখ ভানু, মমিনউদ্দিন দৈখুরা, ভেলা শাহ্, ফকির আফজল শাহ্, পির মজিরউদ্দিনসহ বহু মরমি কবি ও সাধক। অন্তত ছয়শো বছর সাহিত্য ও জীবন চর্চায় এর ভূমিকা ছিল অসাধারণ প্রভাব-বিস্তারী। তারপরও অর্ধশতাব্দী আগে এর বিলোপ ঘটে। এই লুপ্ত সাহিত্যগৌরব পুনরুর্জ্জীবনের লক্ষ্যে উৎস প্রকাশন কাজ শরু করে ২০০৯ সাল থেকে।

Sharing is caring!

Loading...
Open