কানাইঘাটে হত্যা মামলার আসামী ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার::
সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের গুলিতে হাবিবুর রহমান নিহতের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাবি ফারজানা আক্তার গত ২৬শে ডিসেম্বর সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে এ মামলা (নং- সিআর ৩৭১/১৭) দায়ের করেন। মামলায় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আহাদ সহ ৫ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হচ্ছেন কানাইঘাট থানার এস আই আবু কাওছার, এসআই বশির আহমদ, কনস্টেবল পারভেজ মিয়া, কনস্টেবল রাজ্জাক নুর। আদালত মামলা গ্রহণপূর্বক তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন। এঘটনায় নিহতের ভাই ফয়জুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতাবস্থায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় পুলিশ। গত ২১শে ডিসেম্বর রাতে কানাইঘাট থানার চরিপাড়া গ্রামের ফয়জুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় ফারজানা আক্তার জানান, কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের নির্দেশে থানার এসআই আবু কাওসার আমার দেবর হাবিবুর রহমানকে গুলি করে হত্যা এবং স্বামী ফয়জুর রহমানকে গুরুতর আহত করেছে। আমি এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। তিনি জানান, তার স্বামী ফয়জুর রহমান ও দেবর হাবিবুর রহমান এলাকার নিরীহ লোক। গত ২১শে ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদের নির্দেশে থানার এসআই আবু কাওছার কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ফারজানার ঘরে অনুপ্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ বলে তার স্বামী ও দেবর নাকি ডাকাতি মামলার আসামী। এক পর্যায়ে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তার দেবর হাবিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কূলে ঢলে পড়ে এবং তার স্বামী ফয়জুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় ফারহানার শ্বাশুড়ি বৃদ্ধ সায়বান বিবি (৮০) দৌড়ে ছেলেদের কাছে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ জোরপূর্বক ফারহানার দেবর হাবিবুর রহমানের লাশ ও তার স্বামী ফয়জুর রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঐ দিন রাত ৩টায় ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফারহানার বাড়িতে পূণরায় অভিযান করে তাদের বাড়ির সব জিনিসপত্র তছনছ করে চলে আসে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা প্রাণভয়ে অন্যত্র পালিয়ে যান। পরদিন হাবিবুর রহমানের লাশ পুলিশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠালেও ফারহানার স্বামী ফয়জুর রহমানের কোন সন্ধান দেয়নি। তার শ্বাশুড়ি সায়বান বিবি ছেলে ফয়জুর রহমানের সন্ধান চেয়ে থানার ওসির কাছে গেলে ওসি আব্দুল আহাদ তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং বলেন, এ বিষয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে তার পরিবারের সকলকে জেলে ঢুকিয়ে দেবেন। এখন পর্যন্ত ফারহানা তার স্বামীর কোন সন্ধান পাননি। মামলায় ফারহানা আরো জানান তার স্বামী এলাকার নিরীহ লোক। তার সাথে এলাকার কোন মানুষের বিরোধ নেই এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। কে বা কার ইন্ধনে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার পরিবারকে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন। তিনি এ ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআই কে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা দেওয়ার পর কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ধমকি দিচ্ছেন বলে ফারজানা অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে সরকার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close