ইবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অপরাধে ০২জন আটক

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে কাওছার আলী ও আলম মিয়া নামের ২ প্রক্সিবাজকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসেয়াম এর পিছনথেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালত ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়- সোমবার ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় রিফাত শেখ নামের এক শিক্ষার্থীর প্রক্সি দেয় কাওছার আলী এবং একই ইউনিটের সোহানুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয় মোঃ আলম নামের ২ প্রক্সিবাজ।

জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা জানা যায়- কাওছার আলী ও আলম মিয়া পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ইউনিট ভিত্তিক ৪০ হাজার টাকা করে করে চুক্তি করেন। তারা চুক্তি মোতাবেকা পরীক্ষা শেষ করে প্রবেশপত্র দিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য আসলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাদের আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। আটকের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে প্রক্সিবাজদের জিঙ্গাসাবাদ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা প্রক্টর অফিসে প্রবেশ করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলে।

পরে তাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে প্রক্সিবাজদের ভ্রাম্যমান আদালতের নিকট তুলে দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমান আদলতের বিচারক কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সাইফুল ইসলাম কমল পাবলিক পরীক্ষাসমূহ অপরাধ আইন ১৯৮০ এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী তাদের ২জনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। এছাড়া কাওছার আলীর নিকট থেকে ৪০ হাজার অনাদায়ে আরো ১মাস ও আলম মিয়ার নিকট ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। এর আগেও সে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্সি দিয়েছে বলে জিঙ্গাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

জানা যায় ভর্তি পরীক্ষা জালিয়াতির মূল হোতা ছিলেন লাল চাঁদ, রকি, মাহমুদ। রকি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের, মাহমুদ কেসি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের লাল চাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী বলেন- আমরা জালিয়াতিকারী মূলচক্রদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open