নরসিংদীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: সিলেটে চাচী সহ গ্রেফতার ০২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নরসিংদীর শিবপুরে খৈনকুট গ্রামে পরকীয়া সম্পর্ক দেখা ফেলার অপরাধে ভাতিজিকে পুড়িয়ে মারা সেই চাচি বিউটি বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সিলেটের বিশ্বনাথের মীরেরগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় একই মামলার আরেক আসামী সানোয়ারা বেগমকেও গ্রেফতার করা হয়। বিউটি খৈনকুট গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সালাম মিয়ার স্ত্রী এবং সানোয়ারা বেগম (৫০) শিবপুরের উত্তর কামালপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী। আর নিহত আজিজা বিউটির সালামের ভাই আব্দুস সাত্তারের ছোট মেয়ে।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুড়িয়ে মারার পরেই বিউটি ও তার মা সানোয়ারা বেগম সিলেটে পালিয়ে এসে আত্মগোপন করে। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাব বিশ্বনাথের মীরেরগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের বর্তমানে র‌্যাব-৯ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, চাচীর পরকীয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় ১৩ বছরের কিশোরী আজিজা খাতুনকে প্রথমে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর গত শুক্রবার গাছের পাতা কুড়ানোর সময় বিউটি বেগম ও তার ভাই রুবেল মিয়া মিলে আজিজা তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। পরে পরিকল্পনা মাফিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি উঁচু টিলায় নিয়ে আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আগুনে পুড়তে দেখেন।

এরপর আজিজাকে উদ্ধার কর প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে নিরপরাধ শিশুটিকে নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রশাসনজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশ। সন্তানের দাফন শেষে শনিবার রাত ১১টার দিকে বিউটি বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেন সাত্তার মিয়া।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বিউটি বেগমের মা সানোয়ারা বেগম, তার ভাই রুবেল মিয়া ও ফুফুশাশুড়ি তমুজা বেগম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে তমুজা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

Sharing is caring!

Loading...
Open