‘প্রধান বিচারপতির নীরবতা শ্বাসরুদ্ধকর’-শামসুজ্জামান দুদু

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: কিছুদিন আগে প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার জন্য এক মাস ছুটি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে কিছুই বলেননি, এই নীরবতা বিএনপির কাছে শ্বাসরুদ্ধকর বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
‘বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধান বিচারপতি অপ্রত্যাশিতভাবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলেন। পূজা দিয়েছেন, কোর্টে গিয়েছেন, কিন্তু তিনি ছুটি নিয়েছেন কিনা বা অসুস্থ কিনা এ ব্যাপারে কোনো কথা না বলে নীরব থাকছেন। প্রধান বিচারপতির এই কথা না বলাটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর।
তিনি বলেন, সরকারের রোষানালে পড়ে যারা এর আগে গুম হয়ে পরে জীবন নিয়ে ফেরৎ এসেছেন তারা গনমাধ্যমে কোনো কথা লেখেন নাই বা বলেন নাই, একেবারে নীরব হয়ে গেছেন। আমাদের প্রধান বিচারপতি একই পরিণতি ভোগ করলেন কিনা আমি ঠিক বলতে পারবে না। তবে পূর্ব ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন কথা বলা খুব বিপদ। খুবই কঠিন একটা সময় আমরা অতিক্রম করছি।
প্রধান বিচারপতির এমন ঘটনার সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) অধিনে কেমন নির্বাচন হতে পারে। আর নির্বাচনে জয়লাভ করলেও বিরোধী দল যে ক্ষমতা পাবে বোকা ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি আপনার পছন্দের লোক সেই জন্যই তো আপনি তাকে মনোনীত করেছিলেন। সেই প্রধান বিচারপতি যখন ষোড়শ সংশোধনীতে সঠিক এবং সত্য রায় দিয়েছেন এটা আপনি মানতে পারলেন না। এখান থেকে আপনার ক্ষোভ তৈরি হল। তাকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হল।
বিএনপি এ নেতা দাবি করেন, এটা যে তিনি লেখেন নাই, সই জাল করা হয়েছে এটা নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেই। যারা স্কুল কলেজে পড়ে তারাও তো এত কাঁচা কাজ করে না! প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যে কাজটা করেছেন এজন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান। এতে আপনারা ছোট হবেন না কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষা পাবে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে দুদু বলেন, ভারত-চীনে, রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভারত তো আমাদের গলায় বাঁধা বন্ধু, আমরা তো না খেয়েও তাদেরকে খেতে দেই। রাস্তা, বন্দর ব্যবহার করতে দেই, আমরা তাদেরকে কি দেই নাই? তারা আমাদেরকে মারলেও আমরা তাদেরকে কিছু বলি না।
তিনি বলেন, মিয়ানমার যখন রোহিঙ্গাদের মারা শুরু করল তখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মিয়ানমারের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরামর্শ দাতা অং সান সু চির হাত ধরে বললেন আমরা আপনাদের পাশে আছি। তারা রাগ করবেন বলে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো কোনো কথা বলেননি। কূটনৈতিকভাবে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক কাউন্সিলর লায়ন এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার পাটোয়ারী, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস আল মামুন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open