হত্যা ও লাশ গুম করার অভিযোগে সিলেটে ০৩ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়ায় জমির উদ্দিন (৫৫) নামের এক ভূমি ব্যবসায়ীকে হত্যা ও লাশ গুম করার মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা এ রায় প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছে- শহরতলীর মেজরটিলা এলাকার মোহাম্মদপুরের আহবাব হোসেন চৌধুরী (৬২), বিয়ানীবাজারের বড় বালিঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ মইনুল (৪১) ও গোলাপগঞ্জের মঞ্জুরাবাদ গ্রামের মো. রুম্মান আহমদ (১৯)। রায় ঘোষনার সময় আহবাব ও মইনুল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও রুম্মান পলাতক ছিলেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফুর আলী জানান, তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ছাড়াও ৩ জনকে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগে আরও ৫ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, শহরতলীর মেজরটিলার চামেলিবাগ এলাকার বাসিন্দা জমিরউদ্দিন পেশায় একজন ভূমি ব্যবসায়ী ছিলেন। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ করার কথা বলে জমির উদ্দিনকে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর দুপুরে আসামিরা আহবাব হোসেন চৌধুরীর বাসায় নিয়ে যায়। পরদিন জমিরের মরদেহ খাদিমনগর বড়জান চা-বাগান থেকে বস্তাবন্দী অবস্হায় উদ্ধার করে পুলিশ।

চামেলিবাগ পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আহবাব হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জমিরকে খুন করা হয়। পুলিশ এ তথ্য উদঘাটনের পর আহবান ও মইনুলকে গ্রেফতার করে। পরে জমিরের ভাই আলা উদ্দিন বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় হত্যা ও লাশ গুম করার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নং-১৩ (১২-১১-২০১২) করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তৎকালীন ওসি তদন্ত) শিবেন্দ্র চন্দ্র দাশ মামলার তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ গঠন হলে মামলার ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত উল্লেখিত এ রায় ঘোষনা করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close