মৌলভীবাজারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ…।

সুরমা টাইমস ডেস্ক : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষিকা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে অকারণে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে অশ্লীল কথা বলাসহ বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে আসেন না বলে অন্যত্র বদলির হুমকি-ধমকি দিতেন।

প্রধান শিক্ষকের এমন যৌন হয়রানির বিষয়টি শিক্ষিকা স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুসন মিয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু মিয়া সহ আরো কয়েকজনকে অবহিত করেন। গত ১৬ই মে বিদ্যালয় কক্ষে আটকিয়ে ওই শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস। বিষয়টি শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়া জানতে পারলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে ওই দিন সন্ধ্যায় লাঞ্ছিত করেন। সহকারী শিক্ষিকার অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস তার সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন।

তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানের ২-৩ বছর পর থেকে তার প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে ওই প্রধান শিক্ষকের। নানা সময় তার সঙ্গে অনৈতিকভাবে মেলামেশার জন্য কথার ফাঁকে হাসির স্থলে প্রস্তাব দিতেন। প্রায় সময় কাজের কথা বলে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অযথা তার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতেন। তার এমন আচরণে সহকারী শিক্ষিকা আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিতেন। প্রতিনিয়তই প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের এমন আচরণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষিকা।

সহকারী শিক্ষিকা তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, সহকর্মী প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যত্র রেখে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ভাড়া বাসায় তাকে একা যাওয়ার জন্য প্রায়ই প্রস্তাব দিতেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এমনকি হুমকি দেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক কু-কাজ করার। স্কুল শিক্ষিকার বাড়ি ও তার স্বামীর বাড়ি স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় মান-সম্মান হারানোর ভয়ে তিনি কাউকে প্রথমত কিছু বলেননি। প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকলে শিক্ষিকা বাধ্য হয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি, সহকর্মী অপর সহকারী শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ১৩ই মে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তারা আলোচনায় গেলে কোনো সদুত্তর পাননি।

স্কুল শিক্ষিকা জানান, ১৬ই মে ২০১৭ তারিখ সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর দেখেন প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে বসা। তখন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাকে অফিস কক্ষে ডাকেন। অফিস কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কক্ষের দরজা আটকিয়ে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষকের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টায় একপর্যায়ে অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে স্কুলের পাশের একটি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠান ওই বাড়ির লোকজন।

স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে ১৬ই মে সন্ধ্যায় লাঞ্ছিত করেন। ঘটনার পরপর প্রধান শিক্ষক মৌলভীবাজার মডেল থানায় স্কুল শিক্ষিকার স্বামীকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

স্কুল শিক্ষিকা গত ২২শে মে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (৪) খ ধারায় প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close