জৈন্তাপুরে এক মেয়েকে নিয়ে ৩ পক্ষের টানাটানি : তোলপাড়

11-2জৈন্তাপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের জৈন্তাপুরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে টানাটানি শুরু হয়েছে। উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। প্রভাবশালীরা মেয়েটিকে বাল্য বিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির জানান , মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে আসলে মেয়েটি কার?

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- গত ৮ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় জৈন্তাপুর উপজেলার পূর্বলক্ষীপ্রসাদ গ্রামের ফরিদা বেগমের প্রথম বিবাহের মেয়ে জৈন্তা দারুছ-ছুন্নাহ্ জামেয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী মাছুমা আক্তার মনি (১৪) তার বাড়ির উদ্ধেশ্যে যাত্রা করে। বাড়ীর পাশ্ববর্তী গ্রাম লামনীগ্রাম মাছুপাড়া গ্রামের পথ দিয়ে যাওয়ার পথে ওই গ্রামের সুনাই মিয়ার ছেলে পলিকুর রহমান (২২) জোরপূর্বক মনিকে তুলে নিয়ে যায়। পিতা-মাতার অজান্তে এলাকার প্রভাবশালীরা মনিকে বাল্য বিবাহ দিতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় মেয়েটির মা ফরিদা বেগম জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় নিজপাট ইউনিয়ন চেয়াম্যানের কাছে বাল্য বিবাহ বন্ধ ও মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য আবেদন করেছেন। যাহার ডকেট নং-১২৫৪।

লিখিত আবেদনের সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযোগটি প্রেরন করেন। কিন্তু প্রভাবশালী চক্র ছেলের পক্ষালম্বন করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা জোর পূর্বক মনিকে বাল্য বিবাহ দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। সেজন্য মেয়ের পিতা গোয়াইনঘাট উপজেলার ওজুহাত গ্রামের জইন উদ্দিনের সহযেগিতা নেয়। ফরিদা বেগমের অভিযোগ ৩ মাসের শিশু সন্তান রেখে জইন উদ্দিন ফরিদা বেগমকে তালাকদেন। এরপর হতে মেয়ের কোন খোঁজ খবর কিংবা দেখা শুনা করে নাই।

আমার ২য় বিয়ের স্বামী শামীম আহমদ শিশু সন্তানসহ আমাকে বিয়ে করে মনির বরন পোষনসহ এ পর্যন্ত লোখা পড়ার খরচ বহন করে আসছেন। প্রভাবশালীরা বিষয়টি ইর্ষান্নিত হয়ে ছেলের পক্ষালম্বন করে ফায়দা হাসিলের জন্য ১৩/১৪ বৎসর পর অর্থের বিনিময়ে পূর্বের লম্পট স্বামী জইন উদ্দিনকে নিয়ে আসে। জইন উদ্দিন আমার জীবন ধ্বংস করে এখন অর্থের বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটির জীবন নষ্ট করেত পিতার দাবী নিয়ে সামনে আসে। এদিকে এক মেয়ের দুই পিতার দাবীদার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির জানান- আমাদের কাছে অভিযোগে আসার আগেই আদালতের মাধ্যমে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে। তারপরও অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। বর্তমানে মনি আমার থানা হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা হবে। তিনি আরও বলেন দুই ব্যক্তি মনির পিতা দাবীদার হওয়ার নিয়মিত মামলা দেখিয়ে মেয়েটিকে আদালতে কাছে হস্থান্তর করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open