‘রোয়ানু’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ পরিবার

siclone-p-1মোঃ ফখরুল ইসলামঃ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূল হয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানা যায়। এটি দুর্বল হয়ে এখন নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে। তবে ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাগুলোতে কয়েকটি জেলায় বাঁধ ভেঙ্গে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে মাছের ঘের, বিধ্বস্থ হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। অনেক এলাকাতে বিদ্যুৎ নেই। সর্বশেষ খবরে ২৬ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বহু মানুষ এখনও সাইক্লোন শেল্টারে রয়েছে বলে জানা যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৬শ’ ৮৪ এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৯ হাজার ১শ’ ৬৮ পরিবার।
ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তদারকি কর্মকর্তা খালিদ মোহাম্মদ। সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত যে তথ্য আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, সারাদেশে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৬শ’ ৮৪ এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৯ হাজার ১শ’ ৬৮ পরিবার।
কোন এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম জেলা হিসাবে বড়, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি। সেখানে পরিবার এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বেশি। চট্টগ্রামে নিহতের সংখ্যাও বেশি, প্রায় ১২ জন মারা গেছে।
চর এলাকার কোন খবর পাওয়া গেছে কিনা এর উত্তরে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালি, টেকুয়া এবং কক্সবাজার সদরের ঝুলনদা ইউনিয়নসহ এরকম বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে কিছু নিচু এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। পটুয়াখালির রাঙ্গাবালি উপজেলার চরমমতাজ ইউনিয়ন সেখানে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নোয়াখালি জেলার হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ এবং সন্দীপের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন কিনা এ প্রসঙ্গে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সাধারণভাবে কাউকে প্রত্যাহার করার জন্য বলিনি বা তাদেরকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য বলিনি। বিচ্ছিন্নভাবে যাদের বাড়ি কাছে তারা হয়তো নিরাপদ মনে করে বাড়ি ফিরে গেছে। কিন্তু আমাদের এখনও তদারকি চলছে। তাদের খাবার, স্যানিটেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ তৎপরতা সম্পর্কে খালিদ মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার কাজ এখন আর নাই কারণ উদ্ধারের যে সময় সে সময় উদ্ধার তৎপরতা চলেছে। এখন ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা উপকূলের ১৫ টা জেলাকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা মনে করে কাজ করছি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা থেকে নেয়া

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close