‘ছেলের বউ মারে’, তাই বৃষ্টির মধ্যে নগরীর রাস্তায় বৃদ্ধা

22043ডেস্ক রিপোর্টঃ ‘ছেলের বউ মারধর করে। ছেলেও ভালো করে কথা বলে না। আজ সকালে ছেলে কাজে যাওয়ার পর বউ আমাকে বাইরে বের করে ঘর তালাবন্ধ করে বাইরে চলে যায়।’ -বললেন বৃদ্ধা। ছেলে আর ছেলের বউর এই ‘আচরণে’ অভিমান করে শনিবার বাসা ছেড়ে চলে আসেন তিনি। তারপর বৃষ্টির মধ্যেই দিনভর হাঁটতে থাকেন নগরীর সড়কে।
শনিবার বিকেলে ঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছিলেন এই বৃদ্ধা। সন্ধ্যার দিকে দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার সুরমা ভিজে জবুথবু অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার নিজের বাসায় নিয় যান।
নিজের নাম বলতে পারেন না বৃদ্ধা। নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘সবাই আমায় মধুর মা বলে ডাকে’। নিজের বয়সও জানেন না। তবে দেখলে নব্বই ঊর্ধ্ব মনে হয়। রুমা আক্তার জানান, নিজের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মনতলা, নয়নপুর গ্রামে বলে জানিয়েছেন এই বৃদ্ধা। মাসখানেক আগে সিলেটে ছেলের বাসায় এসেছিলেন। তবে ছেলের বাসা নগরীর কোথায় তা জানাতে পারেননি বৃদ্ধা।
বৃদ্ধার বরাত দিয়ে রুমা জানান, বৃদ্ধার তিন ছেলে। আব্দুস সালাম, আব্দুল কালাম ও আব্দুল মালেক। এক মেয়ে ছিলো, মারা গেছেন। দুই ছেলে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। একজন থাকেন নগরীতে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মাসখানেক আগে ছোট ছেলে আব্দুল মালেক নিজের বাসায় নিয়ে এসেছিলেন মাকে। বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে আসার পর ছেলেও কথা বলে না। বউ মারধর করে। আজকে আমাকে বাইরে রেখে সে ঘরে তালা মেরে চলে গেছে। বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধের সময় ৫শ’ টাকা দিয়ে জমি বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের লালন পালন করেছি। এখন ছেলেমেয়েরা আমায় দেখে না।
হবিগঞ্জে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এই বৃদ্ধা বলেন, ‘বাড়ি গেলে আমার খাওয়া-পড়ার অভাব হবে না। নিজেদের জমি চার ভাগ করেছি। তিন ভাগ তিন ছেলে আর এক ভাগ আমার রয়েছে। এছাড়া এলাকার মানুষ আমাকে খাতির যত্ম করে।’
রুমা আক্তার সুরমা বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু অবস্থায় থাকলেও বৃদ্ধাকে বাসার ভেতরে যেতে রাজী হচ্ছেন না। সিঁড়িতেই বসে আছেন। হবিগঞ্জে তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open