তারাপুর চা বাগান যেভাবে দখল করেছিলেন রাগীব আলী

59689ডেস্ক রিপোর্টঃ রাগীব আলী দীর্ঘ ২৬ বছর দখল করে রেখেছিলে তারাপুর চা বাগানটি। সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তের যোগসাজে তিনি ওই বাগনটি দখল করেছিলেন। অবশেষে আদালতের নির্দেশনায় গতকাল রবিবার পঙ্কজ গুপ্তের কাছেই বাগানটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮৯২ সালের ১০ই জুন বৃটিশ মালিকানাধীন তারাপুর চা বাগানটি কিনে নিয়েছিলেন বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত। পরে ১৯১৫ সালে ৪২২.৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা বাগানটিতে তিনি শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউ দেবতার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পুরো বাগানটি রেজিস্ট্রি করে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউ দেবতার নামে দানও করে দেন।
সেই থেকে বাগানটি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। মাঝে পাকিস্তান সরকার বাগানটির দখল নিলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারো দেবোত্তর সম্পত্তির মর্যাদা পায় তা। সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তের সঙ্গে যোগসাজশে পরে এ বাগানটি কবজা করে নেন রাগীব আলী।
১৯৯০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ছেলে আবদুল হাইয়ের নামে বাগানটি ইজারা নেন রাগীব আলী। বাগানের ইজারা পেতে সে সময় জালিয়াতির আশ্রয়ও নিয়েছিলেন তিনি। পরে সংসদীয় কমিটির তদন্তে সে জালিয়াতির প্রমাণও মিলেছিল।
দখল লাভের পর বাগানে নিজের অবস্থান শক্ত করতে রাগীব আলী বাগানের ভূমিতে গড়ে তুলেন নিজের ও তার স্ত্রীর নামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। গড়ে তুলেন আবাসন প্রকল্প, রাগীব-রাবেয়া আবাসিক এলাকা পরিচয়ে ছোট-বড় খণ্ডে বিক্রি করেন বাগানের ভূমি। দুই সরকারি কর্মকর্তার দুটো মামলার ভিত্তিতে সম্প্রতি বাগানে রাগীব আলী ছেলের দখল অবৈধ মর্মে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশ বাগান এলাকাকে ফিরিয়ে আনা হবে আগের রূপে।
প্রায় ২৬ বছর ৪ মাস পর গতকাল রবিবার তারাপুর চা বাগানের দখল সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। রবিবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে থেকে সেবায়েত রাগীব আলীর দখলে থাকা জায়গা বুঝে নিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close