শাহাদাতকে ক্ষমা করেছে বিসিবি

indexক্রীড়া প্রতিবেদক, গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে জেলখাটা শাহাদাত হোসেন রাজীবকে ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই পেসার চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবেন।

শাহাদাতকে বিসিবি ক্ষমা করতে পারে- এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন আগে থেকে মিরপুরে শোনা যাচ্ছিল। শাহাদাতও নিয়ম করে জিম, অনুশীলন করা শুরু করেন।

কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীর কাছে এবং বিসিবির কাছে ক্ষমা চান বিতর্কিত এই ক্রিকেটার। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসায় যেয়েও নাকি ক্ষমা চেয়ে এসেছেন।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনাটি জানাজানি হলে শাহাদাত এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। আদালতে শাহাদাতের আইনজীবী কাজী নজীব উল্যাহ হিরু জামিন আবেদনের শুনানি করেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার ও রাজধানী মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী সৈয়দ নাজমুল হুদা। শুনানিতে তারা জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আমাদের দেশ ও জাতির অহংকার। আর এ কারণেই তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড আশা করা যায় না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হোক। বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করলে শাহাদাতকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ার জন্য একটি আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে জেল কোডের বিধান অনুসরণের আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সকালে গৃহকর্মী হারিয়ে গেছে জানিয়ে মিরপুর থানায় শাহাদাত একটি জিডি করেন। ওইদিন রাতে গৃহকর্মী হ্যাপিকে রাস্তায় কাঁদতে দেখে খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন নামে এক সাংবাদিক তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে যান। হ্যাপির কাছে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাদী হয়ে ক্রিকেটার শাহাদাত দম্পতির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

২১ সেপ্টেম্বর নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আকতার হ্যাপি (১১) আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে হ্যাপি জানায়, ক্রিকেটার শাহাদাত তার গলায় পাড়া দিয়ে রাখত যাতে চিৎকারে কোনো শব্দ বের না হয়। আর তার স্ত্রী প্রতিদিন হাতের কাছে যা পেত তাই দিয়েই পেটাত। মারধরের পর তার শরীর থেকে রক্ত বের হতো। তখন তারা ক্ষতস্থানে বরফ লাগিয়ে দিতেন। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বরফ সরাতে বললে তারা আবার পেটাতেন। হাতের কাছে লাঠি না পেলে পানির বোতল, রুটি বেলার বেলুন ও খুন্তি দিয়ে মারতেন। মাঝে মাঝে গরম তেলের ছেঁকাও দিতেন!

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close