চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইচেষ্টা: ‘সিমলা’য় আটকে আছে তদন্ত

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: চিত্রনায়িকা সিমলার কারণে আটকে আছে চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর বিমান ছিনতাই চেষ্টা মামলার তদন্ত কাজ। ঘটনার আগে থেকে শুটিংয়ের কাজে ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন সিমলা।
এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।

ঈদের পর দেশে ফেরার কথা রয়েছে সিমলার। তখন চট্টগ্রামে এসে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তার বক্তব্য পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সিএমপির পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খীর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বিকালে ঢাকা থেকে ছাড়ার পর পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এরপর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পলাশ। পলাশ আহমেদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। চিত্রনায়িকা সিমলা তার স্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ সিমলার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয় এবং একই বছরের ৬ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়।

এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে। বিমান ছিনতাই চেষ্টার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নায়িকা সিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদের বিরহ থেকে সাবেক স্বামী পলাশ আহমেদ বিমান ছিনতাইয়ের মতো চেষ্টা চালায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, চিত্রনায়িকা সিমলা শুটিংয়ের কাজে ভারতের মুম্বাইয়ে আছেন। তিন মাস চেষ্টার পর ২২ মে চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে ফোনে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বাবার বাড়ির ঠিকানায় তাকে হাজিরের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করা হয়। সিমলা বলেছেন, ঈদ পর্যন্ত তিনি শুটিংয়ের কাজে মুম্বাইয়ে ব্যস্ত থাকবেন। দেশে ফেরার পর তিনি চট্টগ্রাম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে এসে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

তিনি আরও বলেন, মামলায় পাইলট, ফার্স্ট অফিসার, কেবিন ক্রু, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই ফ্লাইটের ২ যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আরও ৩৩ যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পলাশের আরেক স্ত্রী এবং তার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অর্থাৎ এ মামলার সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বিমানের পাইলট-ক্রু’রা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খীর যাত্রী পলাশ আহমেদ আসন পরিবর্তন করলে তাকে নিষেধ করেছিলেন একজন কেবিন ক্রু। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করেন পলাশ। এ সময় পলাশ কয়েক দফা বিমানে অস্থিরভাবে পায়চারি করেন। তখন ককপিটের সামনে বসা ছিলেন পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার। পলাশ পাইলটের সঙ্গে বারবার কথা বলতে চেয়েছিলেন। তবে কেবিন ক্রু’রা তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কেবিন ক্রু শফিকা নাসিম একটি গোপন কোড ব্যবহার করে বিষয়টি পাইলটকে জানিয়ে দেন। পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার লাইভ স্ক্রিন অন করে সেখানে পলাশের গতিবিধি দেখতে পান।

পরে ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন পলাশ। ওই দাবি নিয়েই এক হাতে পিস্তল এবং আরেক হাতে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিয়ে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন পলাশ। যাত্রীদের রক্ষায় পাইলট এবং ক্রু’রা নানাভাবে কালক্ষেপণের কৌশল নেন। এরপর উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে। নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় যাত্রী ও বিমানকর্মীদের।

Sharing is caring!

Loading...
Open