সিলেটে পুলিশ হেফাজতের আসামির লাশ নদী থেকে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক::  সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা মাদক মামলার এক আসামির লাশ পাওয়া গেছে সুরমা নদীতে। গ্রেফতারের দুইদিন পর গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল শনিবার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ জানায়, রাজন মিয়া (২৮) নামের ওই আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে পুলিশের এক এএসআই ও দুই কনস্টেবলকে ক্লোজ করা হয়েছে।

মৃত রাজন কুমিল্লা জেলার বাখরডা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নদী থেকে আসামির লাশ উদ্ধারের সময় তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) হাবিবুর রহমানের দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, সোমবার রাতে শাহপরান থানার একটি মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাজন মিয়াকে গ্রেফতার করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আরও তিন আসামিসহ রাজনকে হাজতে পাঠানোর উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার প্রধান ফটকে পৌঁছলে হাতকড়া পরা অবস্থায়ই অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে সুরমা নদীতে ঝাঁপ দেয় রাজন। খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে গত মঙ্গলবার রাজনের বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা জানান, ঘটনার পরদিন এস এম পি উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এহসান উদ্দিন, এসি কতোয়ালী ইসমাইল হোসেন,(পিপিএমবার) ওসি তদন্ত কতোয়ালী সাহাবুল আলম,তদন্তের ব্যাপারে জানতে  এসি কতোয়ালী ইসমাইল হোসেন,(পিপিএমবার) ‘কে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে এসএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা সুরমা টাইমসকে জানান,তদন্তে তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন এএসআই ও দু’জন কনস্টেবল পদে রয়েছে।ক্লোজকৃত তিন পুলিশ সদস্য হলেন- এএসআই হাবিবুর রহমান,কনস্টেবল মোস্তফা ও কনস্টেবল খালেদ।
উক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার চট্টগ্রামে কারাগারে মাথায় ইটের আঘাতে এক আসামি ও এপ্রিলের শেষের দিকে পঞ্চগড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কারাবন্দি এক আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open