বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে নাজেহাল তাহিরপুবাসী


আবির হাসান মানিক:: বিদ্যুৎ কত সময় রইল তা হিসেব না কষে বিদ্যুৎ কত সময় ধরে নেই সে হিসেব কষতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তাহিরপুরের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকগণ। পবিত্র মাহে রমযানেও এ হিসেবের ব্যতিক্রম ঘটছে না, মিলছেনা মুক্তি। মাতারিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে দীর্ঘসময় ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় সকালে বিদ্যুৎ গেলে আসে বিকালে। আবার সন্ধায় গেলে আসে সকালে। বিশেষ করে রমযান মাসে ইফতারি ও সেহরী সময়ে সময় মতো বিদ্যুৎ না থাকায় রোজাদার মুসুল্লিরা কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।

উপজেলার অনেকেই জানান, পল্লি বিদ্যুতের বাদাঘাট অভিযোগ কেন্দ্রে গ্রাহকরা ফোন করলেই অপর প্রান্থ থেকে তারা বলেন, সুনামগঞ্জ পল্লি বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইনে সমস্যা, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে যাওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার কথা বলে বুজানোর চেষ্টা করছেন।

কিন্তু গ্রাহকরা এসব অজুহাত মানতে নারাজ। তারা বলছেন, সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিস কতৃপক্ষ ও লাইনম্যানদের কামখেয়ালীর কারণেই এ উপজেলার মানুষ ঠিক মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।

জানা যায়, এ উপজেলার প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা থাকা সত্ত্বেও তাদের শরীর ঘামছে।

রাতের ভ্যাপসা গরমে কেড়ে নিচ্ছে তাদের ঘুম। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ লোডশেডিং উপজেলাবাসীকে করে তুলেছে অহসনীয়।

প্রতিদিন টানা কয়েক ঘন্টার এ দুঃসহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে এ উপজেলা মানুষদের। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা, বানিজ্য, লেখা-পড়া এমনকি চিকিৎসা ব্যবস্থাও।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বালিয়াঘাট নতুন বাজারের অজিত দাস ও বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, বিদ্যুৎ ঠিক মতো না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংস সহ অন্যান্য জিনিস প্রায় সময়ই নষ্ট হচ্ছে।

শ্রীপুর বাজারে ব্যবসায়ী মামুন ও জঙ্গলবাড়ী বাড়ীর ব্যাবসয়ী আবুবক্কর জানান, বাদাঘাট পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলেই তারা বলেন, মেইন লইনে সমস্যা। একবার লাইনে সমস্যা হলে অফিসে বার বার ফোন করেও লাইনম্যানদের দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা।

সূত্রে জানা যায়, সরকার পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও অব্যবস্থপনা, জরাজীর্ন অবকাঠামো আর মান্ধাতা আমলের কুটি দিয়ে বিতরণ লাইনের কারনে বাতাস আসার আগেই বিদ্যুতের খুটি পড়ে বা ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে জনবল কম থাকায় এ উপজেলার মানুষ উৎপাদিত বিদ্যুতের উন্নত সুফল পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লি বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার অকিল কুমার শাহ জানান, সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমান জনবল আছে। তবে, মাঝে মধ্যে লাইন মেরামতের জন্য মেইন লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যার কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী দুই এক দিনের ভিতরে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট সাবষ্টেশন থেকে বিদ্যুৎ চালু হবে। তখন তাহিরপুরবাসী ভালো বিদ্যুৎ পাবেন, ঘনঘন লোডশেডিং আর পোহাতে হবে না।

Sharing is caring!

Loading...
Open