ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির বিষয় নিয়ে ট্রাভেলকে : যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সুরমা টাইমস ডেস্কঃঃ লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত সিলেট সহ অন্যস্থানের ২৪ টি ট্রাভেল এজেন্টকে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছিল ৩৯ জন তাদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশিকে হালকা জকম হলেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তারা সবাই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান- ড. এ কে আবদুল মোমেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এসব তথ্য প্রদান করেন সাংবাদিকদের।

২০১৯, ৯ মে দুটি নৌকায় করে ১২০ জনের মতো বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে পাড়ি দেন স্বপ্নের দেশে যাওয়ার জন্য। তথ্যসূত্রে জানা গেছে প্রথম নৌকাটি ইতালিতে পৌঁছালেও অন্য নৌকাটিতে ৪০জনের নৌকায় ৭০-৮০ জনের মতো যাত্রী উঠে ছিল। অার এই নৌকাটি মূলত ডুবে যায়।

অাহত প্রায় ১৪জন বর্তমানে তিউনিসিয়ার জার্জিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ১০ জনকে তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সবাইকে জোরজবরদস্তি করে পিঠে হাত দিয়ে নৌকায় ওঠানো হয়। ফলে তারা জকম হয়ে হয়ে যায় অার নৌকায় ওঠার ১০ মিনিট পরে নৌকাটি ডুবে। উদ্ধারকৃত যে কয়জন তাদের মধ্যে একজন মৃত এসেছে। আর ১৪ জনের মধ্যে দুজনের শরীর আগুনে পুড়ে গেছে।

ট্রাভেল নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য::
ড. আবদুল মোমেন বলেন, ‘নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র এবং সিলেটের ফ্রড ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটা চক্র লোক পাঠায়। তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও লিবিয়ার ত্রিপোলির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ভালো। সিলেটের প্রতারক ট্রাভেল এজেন্টের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। প্রতারক এজেন্টগুলো মানুষ পাচারে ব্যস্ত থাকে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ২৩টি ট্রাভেল এজেন্টকে সিলগালা করে দিয়েছেন। তিনি অারো বলেন, এদিকে যারা আহত হয়েছেন তারা দেশে ফিরতে চাইলে তাদের নিয়ে আসা হবে এবং যেসব বাংলাদেশি নৌকাডুবির ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের লাশ স্বজনরা চাইলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

উদ্ধারকৃত তরুনের বক্তৃব্য::
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা চার থেকে ছয় মাস আগে দুবাই হয়ে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। তাদের নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।

Sharing is caring!

Loading...
Open