নগরীর উপশহরে লাশ গুম করতে না পেরে ২৫ হাজার টাকায় রফা দফা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর উপশহরের ২২ নম্বার ওয়ার্ডে এক রিকশা চালকের লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে গুম করতে না পেরে পরে সাবেক কাউন্সিলরের মাধ্যমে রিকশা চালকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে লাশের রফাদফা করা হয়েছে। রিকশা চালকের লাশটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দাফন করা হয়েছে। এ নিয়ে উপশহর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুর ২টায় নগরীর শাহজালাল উপশহরে জি ব্লকের ৩ নাম্বার রোডের মর্তুজা মিয়ার বাসার সামনের নারিকেল গাছ থেকে পড়ে রিকশা চালকের মৃত্যু হয়। নিহত ইসমাঈল উল্লাহ (৩৩) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের হাবিবুল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশা চালাক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নগরীর তেরোরতন এলাকার ফারুক মিয়ার কোলোনীতে ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মা, স্ত্রীসহ চার সন্তান গ্রামের বাড়ি বিশ্বম্ভরপুরে থাকেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, নিহত ব্যক্তির মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর দাবী- মর্তুজা মিয়া সম্পদশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামচাপা দিতে লাশটিকে গুম করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দাফন করান। ময়না তদন্ত করা হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবী করেন স্থানীরা।

এ ব্যাপারে মর্তুজা মিয়া বলেন, আমি তাকে আমার বাসার নারিকেল গাছে উঠে নারিকেল পাড়তে বলি। সেও আমার কথায় রাজি হয়ে গাছে উঠলে হঠাৎ পা ফসকে সে নিচে পড়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পুলিশকে অবগত করেছিলেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সেই সময়ে আমার মনে হয়নি!

লাশ গুম করার বিষয়ে তিনি বলেন- গাছ থেকে পরে গেলে আমরা ক’জন তাকে তুলে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে শুনলাম এলাকায় আমরা নাকি লাশ গুম করার চেষ্টা করেছি। তিনি নিহত রিকশা চালকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেয়ার কথাও স্বীকার করেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক উদ্দিন বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালে সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি নিজেকে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিচয় দেন। তার সাথেও বাসার মালিক ছাড়াও এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী ছিলেন। নিহতের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য আমাদেরকে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দিনমজুর ইসমাঈলের মৃত্যুর ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে শাহজালাল উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সুহেল রানা জানান, নারিকেল গাছ থেকে দূর্ঘটনা বশত সে নিচে পড়ে আহত হন এবং তিনি মারা যান। ঘটনাটি দুপুরে ঘটলেও তিনি সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি শুনেছেন। তবে দুর্ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

নগরীর ২২ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন বলেন- মর্তুজা মিয়া আমাকে বিষয়টি জানান। পরে আমি তাদের সাথে যাই।পচিশ হাজার টাকা গরিব হিসেবে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকেও অবগত করেন নি মর্তুজা মিয়া।

রাতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাদের মাধ্যমে শুনেছেন নগরীর ২২ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম।

বিষয়টি জানেন না শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন। তিনি জানান, থানায় এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open