ছিনতাইকৃত পাসর্পোট উদ্ধারে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা, সংবাদ সম্মেলনে মামলা স্থানান্তরের দাবি


সিলেটের ওসমানীনগরে আড়াই মাসেও প্রবাসীর ছিনতাই হওয়া পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পাসপোর্ট ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থানা পুলিশ মামলার অগ্রগতি কিংবা সঠিক তদন্ত করছেনা।

এবিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেননা বলে গতকাল বুধবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের মাওলানা ইউসুফ আলীর ছেলে মো. নজির আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নজির আহমদ বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নজির আহমদের চাচা লন্ডন প্রবাসী হাফিজ এম ডি ইউনুছ আলীর পাসপোর্টসহ দু’টি বৃটিশ পাসপোর্ট, নগদ ত্রিশ হাজার টাকা, দেড় হাজার ইউরো পাউন্ড, কয়েকটি ব্যাংকের চেকবহি-এটিএম কার্ড ও দলিলপত্র ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন ইউনুছ আলী বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় জিডি করা হয়। তা পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা নং-১৭ দেখানো হয়েছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলার মোহাম্মদপুর রাইগদ্বারা গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র সিএনজি চালক তুরণ মিয়া, বাজিতপুর গ্রামের ফিরুজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাহাপুর গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে পেশাদার ছিনতাইকারী মঈন উদ্দিন ওরফে ডাকাত সর্দার মঈনকে আটক করে পুলিশ।

আটকের পর জনসম্মুখে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মঈন জানায়- ইউনুছ আলীর স্ত্রী তাছলিমা বেগম সূপা’র ভাই কাইয়ুম, তাছলিমার পরকিয়া প্রেমিক জুনেদের পরিকল্পনায় পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র ছিনতাই করানো হয়েছে। ছিনতাই হওয়া পাসপোর্ট, টাকা, ও কাগজপত্র কাইয়ুম এবং জুনেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাত সর্দার মঈনের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে তার অংশের দশ হাজার টাকা ও ছিনতাইকালে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। মঈনের স্বীকারোক্তির ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে ভাইরাল হলেও মূল অপরাধীদের এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে নজির আহমদ অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোল্লা জেল হাজতে থাকা আসামীদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন না করিয়ে পরিকল্পনাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তিনি। এছাড়া আসামীদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন, মূল অপরাধীদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া পাসপোর্ট উদ্ধারের নামে নজির আহমদ ও তার চাচা ইউনুছ আলীর কাছ থেকে এসআই সাইফুল মোল্লা বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু পরিকল্পনাকারীরা এখনো অধরা রয়েছে। এছাড়া ডাকাত সর্দার মঈনের স্বীকারোক্তির ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাসলিমা ও তার পরকিয়া প্রেমিক জুনেদ এবং তাছলিমার ভাই কাইয়ুম বিভিন্ন মাধ্যমে ইউনুছ আলীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক ভুমিকা পালন করেছে। এমতাবস্থায় ইউনুছ আলী লন্ডন ইমোগ্রেশনের সাথে যোগাযোগ করে ইমোগ্রেশনের সহায়তায় তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই যুক্তরাজ্যে চলে যান।
এদিকে মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে নজির আহমদ ২৫ মার্চ সিলেটের ডিআইজির নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দাখিলের দির্ঘ বিলম্বে এখনও মামলাটির কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। এমনকি মামলাটি অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থার নিকটও হস্তান্তর করা হচ্ছেনা। এমতাবস্থায় দাখিল করা অভিযোগের আদৌ নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? না এনিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মামলা দায়ের এবং পরবর্তী সময়ে অভিযোগ দাখিলের পর থেকে জুনেল, কাইয়ুমও তাদের সহযোগীদের হুমকির বিষয়ে নজির আহমদ ওসমানীনগর থানায় জিডি করতে গেলে থানার ওসি তার জিডি নেননি। এতে করে নজির আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নজির আহমদ উল্লেখ করেন, প্রবাসী ইউনুছ আলীর সাথে উপজেলার ধনপুর গ্রামের মুজাম্মিল আলীর মেয়ে তাছলিমা বেগম সূপার বিয়ে হওয়ার পর থেকে তাছলিমা তার প্রতিবেশী চাচা জুনেদ ওরফে জুনেলের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হন। বছর খানেক পূর্বে তাছলিমার পরকিয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারে ইউনুছ আলী এর প্রতিবাদ করেন। এতে তাছলিমা স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর ইউনুছ আলী দেশে আসলে তাছলিমার পরিকল্পনায় ইউনুছ আলীকে অপহরণ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। ইউনুছ আলী বিষয়টি টের পেয়ে প্রবাসে ফিরে যান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউনুছ আলী দেশে আসলে তাছলিমার সহযোগীরা ইউনুছ আলীর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকেন।

এমতাবস্থায় ছিনতাইকারী দিয়ে ইউনুছ আলীর পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র ছিনতাই করানো হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open