বাবার হাতে মা হত্যার বর্ণনা দিলেন ৭ বছরের শিশু

‘মাকে জোর করে বাথরুমে নিয়ে যায় বাবা আর রনি ভাইয়া ও মীমের আম্মু আন্টি। ভাইয়া আর আন্টি মাকে জোর করে ধরে রাখে আর বটি দিয়ে বাবা মাকে জবাই করে। পরে আমাকে ধমকিয়ে ‘চুপ’থাকার কথা বলে বাবা।’

এভাবেই মা জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি হত্যার দৃশ্য বর্ণনা করলো তার ৭ বছরের শিশু অনিম। সে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। সেসময় তার বয়স ছিলো চার বছর।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই কথা জানায় অনিম। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার নানা মো. খোকন এবং নানী নূর আক্তার। তারা নগরীর ১৫৩ নম্বর খানপুর মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা নূর আক্তার দাবি করেন, তার মেয়ের হত্যাকারী আজগর আলী জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে প্রার্থনা করলেও তা না মঞ্জুর করে দেন আদালত। কিন্তু আজগর আলী কৌশল করে নিম্ন আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। বর্তমানে আমরা আমাদের নাতির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে নূর আক্তার দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। সেখানে তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করে তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মিকে বিএ অনার্সে ভর্তি করান।

এরমধ্যে ঢাকার সুরিটোলা এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের ঘরে অনিম নামে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। সে বর্তমানে আমাদের কাছে রয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বরাবর আজগর আলীর জামিন আদেশ বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে জানিয়ে নূর আক্তার বলেন, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আজগর আলীকে হাইকোর্ট বিভাগ জামিন প্রদান করলেও তা আবার আপিল বিভাগ বাতিল করে দেন।

এর আগেও বেশ কয়েকবার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলেও তা না মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু কৌশল এবং তথ্য গোপন করে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে ‘ঘাতক’ খোকন।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তুলে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বাতিলকৃত জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও এবং হাইকোর্ট বিভাগে রুল পেন্ডিং থাকা সত্ত্বে মহানগর দায়রা জজ আদালত আমার মেয়ে হত্যার মূল আসামি আজগর আলীকে কীভাবে জামিন দিল?

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৫ নভেম্বর ঢাকার সুরিটোলার একটি ফ্ল্যাটে নির্মম ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ নভেম্বর ঢাকার বংশাল থানায় মেয়ের জামাই আজগর আলী এবং ভাগিনা রনির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহত ঊর্মির বাবা মো. খোকন।

Sharing is caring!

Loading...
Open