প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে ঘন্টাখানেক রাস্তায় চাঁদা আদায়


সুরমা টাইমস ডেস্কঃঃ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরফিন টিলার পাথরবাহী ট্রাক্টর গাড়ি থেকে রয়্যালটির নামে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বিরাজ করছ। যে-কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

জানা যায়- গত শনিবার দিনে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক্টর মালিক ও যুবকরা মিলে বাবুল নগর ঘাটে পাথরবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এরপর সারাদিন চাঁদা আদায় করতে পারেননি ওই রাস্তায় চাঁদা আদায়কারী জিহাদ আলী ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী।

পরে সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে জিহাদ ও মোহাম্মদ আলীর লালিত গুন্ডা আঞ্জু মিয়া ও তার বাহিনী বন্দুক, বল্লম, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামে এবং চাঁদা বন্ধকারী যুবকদের হত্যার হুমকি দেয়।

এসময় আঞ্জু মিয়া প্রকাশ্যে ৪/৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। প্রায় ঘন্টাখানেক রাস্তায় চাঁদা আদায় করে তান্ডব সৃষ্টি করে আঞ্জু ও তার দলবল। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়নি।

আঞ্জু মিয়ার গুলির শব্দ শোনে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক্টর মালিক ও যুবকরা এলাকার মুরব্বিয়ানদের সাথে বাবুল নগরে যান। মুরব্বিয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে আঞ্জু ও তার দলবল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে রোববার সকালে আঞ্জু মিয়া তার ছেলেদের নিয়ে (মাথায় ও কোমড়ে গামছা বেঁধে) একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট দেয় এবং তার ক্যাপশনে লিখে দেয়- ‘আমরা রেডি, মরার লাগিন’ অর্থাৎ আমরা মরতে প্রস্তুত আছি। তাড়াতাড়ি এই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। আঞ্জু মিয়ার এমন ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ওই এলাকার শান্তিকামী মানুষের মধ্যে চরম অশান্তি দেখা দেয়। যে কোন সময় আঞ্জু মিয়া বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে- এমনটাই ধারণা করছে স্থানীয়রা। আঞ্জু মিয়া বিগত সময়েও আলোচিত হয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে শাহ আরফিন টিলায় ৫জন শ্রমিক নিহতের ঘটনা ও লাশ গুমের দায়ে মামলা রয়েছে। এছাড়াও আঞ্জু মিয়া অসংখ্য মামলার আসামী।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গুলাগুলির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open