সুরমা টাইমস পত্রিকার পক্ষ থেকে পাঠক-পাঠিকা, সহ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা


আহমেদ শাকিলঃঃ আজ সকালের সূর্য আনন্দের আলো ছড়িয়ে হাজির হবে বাঙালির জীবনে। আজ পহেলা বৈশাখ। গানের সুরে মন রাঙিয়ে মানুষ বরণ করবে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২৬-কে। গানের সুরে – ‘এসো হে, বৈশাখ এসো এসো/ বত্সরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক’।শুভ নববর্ষ ১৪২৬! আবারো সব জরা ঘুচিয়ে সময় এসেছে নতুন বাংলা বছর বরণের।

দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬।

বাংলা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব হল এই বাংলা নববর্ষ উদযাপন। তাই প্রতি বছরই গোটা বাঙালি জাতি সকল ধর্ম, বর্ণ, বিভেদ ভুলে উদযাপন করে বাংলা নতুন বছরকে।
নতুন বছরে সেই আলোকিত দিন সবার জীবেন বিরাজ করবে- নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সে প্রার্থনাই করবে সকলে।
দুঃখ-কষ্ট আর আনন্দ তো মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী।

আজ নতুন বছরে সেইসব অন্যায়কে দূরে সরিয়ে শান্তি ও মুক্তির প্রত্যাশাই জানাবে সবাই।

কিন্তু মানুষের সম্মিলিত যাত্রা আলোকিত জীবনের দিকে। জাতীয় জীবনে অগ্রগতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির মাঝেও অশিক্ষা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, দমন-পীড়ন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। হত্যা, ধর্ষণ, এসব বেশকিছুদিন ধরেই দেশের মানুষকে আলোড়িত করেছে। কালবৈশাখী ঝড় এসে যেন অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে নতুন জীবনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সে আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ পাবে মানুষের হূদয়ে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার ভিতর দিয়েই নতুন বছরে সব অপ্রাপ্তি ভুলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করার সাহস পাবে বাঙালি। ছায়ানট তাই আজ তাদের অনুষ্ঠানে গাইবে মানবতার গান। কবিতার পংক্তিমালায় উচ্চারণ করবে মানবতার জয়গান। মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার ফুটিয়ে তোলা হবে- মা শিশুর সম্পর্কের মাহাত্ম্যকে। সিলেট সহ দেশের আনাচে-কানাচে বরণ করবে নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে।

বাংলা বর্ষের প্রচলন
পহেলা বৈশাখের উত্সবের শুরুটা সেই আকবর আমলেই। এ দিনে তিনি মিলিত হতেন প্রজাদের সঙ্গে। সবার শুভ কামনা করে চারদিকে বিতরণ করা হ’ত মিষ্টি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে বর্ষবরণ উত্সব চলে আসে জমিদার বাড়ির আঙিনায়। খাজনা আদায়ের মতো একটি রসহীন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় গান-বাজনা, মেলা আর হালখাতা। ‘হালখাতা’ রয়েছে। দেশের ব্যবসায়ী মহলে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান মানে নতুন অর্থবছরের হিসাব খোলা।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ জাতীয় ছুটির দিন। সংবাদপত্রগুলোও প্রকাশ করছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।

প্রাহিজরি চান্দ্র সন ও বাংলা সৌর সনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।চীন যুগে ‘বাংলা সনের’ প্রথম মাস ছিল অগ্রহায়ণ। একসময় বাংলায় ‘নববর্ষ’ পালিত হত আর্তব উত্সব বা ঋতুধর্মী উত্সব হিসাবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষি কাজ ঋতুনির্ভর। এই ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর আদায়ের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। আর তা কার্যকর হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে অর্থাত্ ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে। প্রথমে এ সন ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। আর বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র ‘বিশাখা’র নাম থেকে, বিশাখা থেকে নাম হল বৈশাখ। ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ সামাজিক জীবনে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেছে। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার ও অন্যান্য ভূস্বামীদের খাজনা পরিশোধ করতো। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতো। এ উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে মেলাসহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

সাপ্তাহিক সুরমা টাইমস ও অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক, পৃষ্ঠপোষক, আমাদের অগণিত পাঠক-পাঠিকা, এজেন্ট, হকার, বিজ্ঞাপনদাতা, দেশবাসী ও শুভান্যুধায়ীদের জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা

Sharing is caring!

Loading...
Open