যে কারণে বাঁচানো গেল না মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে

ফেনীর সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ করেছেন চিকিৎসকরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে কাজ শুরু হয়ে ১২টায় শেষ হয় ময়নাতদন্ত। তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্তে অংশ নেন।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, নুসরাতের শরীরের ৭৫ ভাগ মেজর বার্ন ছিল। এর মধ্যে ৬০ ভাগ গভীর পোড়া। তার শ্বাসতন্ত্র পোড়া ছিল। কেরোসিন নিজেই টক্সিক। এটা ফুসফুস ও ব্রেনের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। আর এই চারটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।

নুসরাতের চিকিৎসায় গঠন করা বোর্ডের প্রধান ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, সকাল থেকে মেয়েটির অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এর মধ্যে একাধিকবার তার হার্ট অ্যাটাক করেছিল, তার পরও সে সার্ভাইভ করছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে সে মারা যায়। মেয়েটিকে বাঁচাতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল।

এদিকে সকালে হাসপাতালের হিমঘর থেকে নুসরাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরা ৪/৫ ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open