শাহজালালের মাজারকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষদের ঘিরে পর্যটনের বিকাশ হতে পারে: প্রতিমন্ত্রী


সুরমা টাইমস ডেস্ক: বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ‘দেশীয় পর্যটনের বিকাশে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণকে কাজে লাগানো যেতে পারে। সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষ যায়। তাদের সঙ্গে যদি আমরা পর্যটনের মেলবন্ধন ঘটাতে পারি তাহলে উন্নতি হতে পারে।’ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে তিনি এই ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় তিন দিনের আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘নভোএয়ার ঢাকা ট্রাভেল মার্টের উদ্বোধন হয়।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর মতে, ভারতে আজমীর শরীফ জিয়ারত করতে যায় অনেকে। এই দিকটিকে কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যুর দেওয়া হচ্ছে। আমাদেরও ধর্মপ্রাণ মানুষদের ঘিরে পর্যটনের বিকাশে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের এই সবুজ-শ্যামল দেশ, আমাদের সভ্যতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি সবই পর্যটনের জন্য অনুকূল। এগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। তাই প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে পর্যটনের প্রচারণা চালাতে হবে। কারণ পর্যটন এখন দেশের বৃহৎ শিল্প। একটি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো পর্যটন। ফলে ভ্রমণপ্রেমীদের সুবিধার্থে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’

মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আগে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জে নিজের গ্রামে যাওয়ার সময়ের বর্ণনা দেন মো. মাহবুব আলী, ‘রাত দুইটা-তিনটার দিকে ঘরে ফেরার সময় দু’দিকে চা-বাগান আর আঁকাবাকা রাস্তায় দেখি চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে। আমার মনে হয় না, পৃথিবীর কোনও সৌন্দর্য এর ধারেকাছে আসতে পারবে! সুইজারল্যান্ডের সৌন্দর্যও দেখেছি, কিন্তু আমাদের দেশের চা বাগানের ল্যান্ডস্কেপের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কোথাও নেই। টেক্সাসের একটি লেক দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আমাদের। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, রাঙামাটির লেক অনেক উন্নত ও দেখতে বেশি সুন্দর। বার্লিনে একটি অনুষ্ঠানে বলেছি, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সাবাজার আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় সৈকত কথাটার মধ্যেই একটা আকর্ষণ আছে। কক্সবাজারকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে আমাদের দেশ অনেকদূর অগ্রসর হতে পারে।’

কিছুদিন আগের কথা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাইলাম, দুবাইয়ে কী পরিমাণ তেল? তার ধারণা ছিল দুবাইয়ে তেলের খনি আছে। কিন্তু রাষ্ট্রদূত তাকে চমকে দিয়ে জানান, দুবাইয়ে কোনও তেলই নেই! তাহলে দুবাই এত সমৃদ্ধ হলো কীভাবে? পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর মুখে এই প্রশ্ন শুনে তিনি বললেন— বিমানবন্দর, এমিরেটস এয়ারলাইনস ও পর্যটক সমাগমের সুবাদে পৃথিবীতে দুবাই বিশেষ অবস্থানে যেতে পেরেছে।’

হবিগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটনের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা-উপজেলায় পর্যটন স্পটের প্রসার ঘটাতে পারলে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হবে। তার আশ্বাস, এমন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বেসরকারি উদ্যোগের ফলে পর্যটন শিল্পে নিয়মিতভাবে বৈচিত্র্য আসছে। তিনি আশা করেন, এবারের ঢাকা ট্রাভেল মার্ট দেশের পর্যটন শিল্পে আরও গতির সঞ্চার করবে। ভ্রমণবিষয়ক পাক্ষিক দি বাংলাদেশ মনিটর ষোড়শবারের মতো এর আয়োজন করেছে। এবারের মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে যুক্ত হয়েছে নেপাল। এবারই প্রথম ঢাকা ট্রাভেল মার্টের কোনও আসরে পার্টনার কান্ট্রি নেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ও নেপাল ছাড়াও মেলায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পর্যটন সংস্থাগুলো অংশ নিচ্ছে। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৪১টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা পাঁচটি প্যাভিলিয়ন ও ৭০টি স্টলে নিজেদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেলা চলাকালীন হ্রাসকৃত মূল্যে বিমান টিকিট বিক্রির পাশাপাশি আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করছে।

আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চলবে মেলা। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। সমাপনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড র্যা ফেল ড্র। বিজয়ীদের জন্য রয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যের এয়ার টিকিট, ট্যুর প্যাকেজ, তারকা হোটেলে থাকা, লাঞ্চ ও ডিনার কূপনসহ বিভিন্ন পুরস্কার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন দেশি-বিদেশি শিল্পীরা।

Sharing is caring!

Loading...
Open