ধর্ষণের শিকার ১৩ বছরের শিশু, সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা


সুনামগঞ্জ:: দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ গ্রামে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার ধর্ষণকারীর নাম মো. আব্দুনুর মিয়া (৫৮) । সে পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে।

সোমাবার সকাল ১১টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গণিগঞ্জ গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুনুর মিয়াকে আটক করে থানা পুলিশ।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়- ধর্ষণকারীর ঘরে স্ত্রী, ৫ ছেলে, ছেলের বউ, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনী থাকার পরও লম্পট আব্দুনুর ওই নাবালিকা শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটি বর্তমানে সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য সালিশের কয়েকজন মাতব্বরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুষ্ঠু বিচার পায়নি অন্তঃসত্ত্বা শিশু ও তার পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি আনুমানিক ২০১৮ সালের ১০ জুনের পরপর দুই রাতে ঘটে। এই ধর্ষণের ফলেই শিশুটি এখন সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দিনমুজুর বাবার সংসারে অনেক অপবাদ শুনতে হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা জানান- গণিগঞ্জ গ্রামের সালিশে মাতব্বর পূর্বহাটি গ্রামের মৃত ধনাই মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদ (৬০), পশ্চিমহাটির মরল বাড়ির লাল মিয়ার ছেলে আব্দুল আওয়াল (৫৫), তালেব আলীর ছেলে মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম (৫২), আব্দুল গফুরের ছেলে খইছা মিয়া মেম্বার, বাজার হাটির রবাই মিয়ার ছেলে কাহার মিয়া, নুরফর মিয়ার ছেলে আনজু মিয়া মিলে প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে ওই সালিশগণ উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন এবং ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে বিয়ের কাবিন নামার মাধ্যমে শিশুটিকে ধর্ষণকারী আব্দুনুরের কাছে বিবাহের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা সালিশদের শরণাপন্ন হলে গ্রাম্য বিচারকদের অনীহা, উদাসীনতার কারণেই এই অবুঝ শিশুটি এখন সন্তানের মা হতে চলেছেন বলে শিশুটির পিতামাতা গণমাধ্যম কর্মীদের এমন অভিযোগের কথা জানান।

এদিকে আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই এই নাবালিকা শিশুটি একটি সন্তানের মা হতে চলেছেন এমন ভাষ্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের। অন্তঃসত্ত্বা শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার (১৬ মার্চ) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ধর্ষণকারীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সবকিছু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open