বন্দুকধারী বলতে থাকে, ‘আমি আজ মুসলমানদের খুন করতে এসেছি


সুরমা টাইমস ডেস্ক:: নৃশংস হামলায় নিউজিল্যান্ডের মুসলমানরা হতভম্ব অবস্থায় রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হিসেবেই পরিচিত। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলার পর দেশটির মুসলমানদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৭ জন। নৃশংস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে সারা বিশ্ব। মসজিদে হামলাকারী ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে এখনো তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা হয়। ওই হামলাতেও একই ব্যক্তি জড়িত কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আল নূর মসজিদে বন্দুকধারী যখন গুলি করছিলেন তখন একটি ছোট্ট কক্ষে ওজু করছিলেন আনোয়ার আল সালেহ নামের পাকিস্তানি নাগরিক। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে থাকছেন। তিনি ওজু করার সময় ওজুখানার পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলেন বন্দুকধারী। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করেন এবং ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

এ সময় বন্দুকধারীর একটি কথা কানে আসে আনোয়ারের। বন্দুকধারী বলতে থাকেন, ‘আমি আজ মুসলমানদের খুন করতে এসেছি।’

আনোয়ার আরও বলেন, ঘটনা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তখন তিনি মসজিদের ভেতর অনেকগুলো লাশ পড়ে থাকতে দেখেন, তাদের মধ্যে নারি ও শিশুর লাশও ছিল।

হাতের রক্ত কাপড় দিয়ে আটকে ওই ব্যক্তি আরও জানান, হামলার সময় মসজিদের একটি গ্লাস হাত দিয়ে ভেঙে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় গ্লাসের সঙ্গে লেগে তার হাত কেটে যায়।

নিউজিল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্টাফ নিউজকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘তিনি (বন্দুকধারী) ভিতরে ঢুকলেন এবং মসজিদের সবাইকে শ্যুট করা শুরু করলেন। কমপক্ষে ৫০ বার গুলি ছুঁড়েছেন। তার সঙ্গে একাধিক ম্যাগজিন ছিল। কয়েকশ রাউন্ড হতে পারে।’ তবে হামলাকারী মাথায় হেলমেট থাকায় তার সম্পূর্ণ চেহারা দেখতে পারেননি তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open