গোলাপগঞ্জ-জকিগঞ্জ সড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাংবাদিক আহত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: গোলাপগঞ্জের সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হিলালপুরে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় শ্রমিক, সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্তত ৮জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় প্রায় ৩ ঘন্টা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে করে সড়কের উভয় দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা।

আহতরা হচ্ছেন- সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম পীরমহল্লার মৃত আকবর আলীর পুত্র চালক নাসির উদ্দিন (৩২), গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার বাদ রণকেলী গ্রামের মৃত ছুটন মিয়ার পুত্র জাবেদ আহমদ (৩১) ও শ্রমিক রিপন আহমদ (২৮)। আহত অন্য শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যদের নাম তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক শুভ প্রতিদিনের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি ও গোলাপগঞ্জ পৌর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ আহত হয়েছেন।

পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে ব্যারিকেড তুলে নেয় শ্রমিকরা।

স্থানীয় ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ি রিকুইজিশন করতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। সকাল ১২টার দিকে এক চালক মালবোঝাই পিকআপ নিয়ে সিলেট থেকে জকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে (সিলেট-মেট্রো-ন-১১-০৩৯৮) রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে ফুলবাড়ী ইউপির হিলালপুর ড্রিমল্যান্ডের পার্কের গেইটের সামনে এলে ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্যরা গাড়ীকে সিগন্যাল দেন। এসময় পুলিশ পিকআপ চালক নাসিরের গাড়ীর কাগজপত্র চেক করে পুলিশ ডিউটির কথা বলেন। চালক পুলিশ ডিউটি ইতিমধ্যে করেছে বলে রশিদ দেখালে পুলিশ সেটি ছিড়ে ফেলে দেয়। এরমধ্যে চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তখন অপর চালক জাবেদ এগিয়ে আসলে তার সাথেও পুলিশের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরে ঘটনাটি হাতাহাতিতে রুপ নিলে উভয় চালকই আহত হন।

সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আহত দু’জন চালককে নিয়ে ট্রাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। রাস্তার দু’দিকে ছোট বড় শত শত গাড়ী ও হাজারো যাত্রী আটকা পড়েন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ইট-পাটকেল ছুড়েন। কয়েকজন পুলিশ শ্রমিকদের ইটপাটকেলে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাশেদুল হক চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে শ্রমিক কিছুটা শান্ত হয় ও ব্যারিকেড তুলে নেয়।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বড় ধরনের কিছু হয়নি। কথাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে কেউ কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ৬/৭জন সামান্যরকম আহত হয়েছেন। কোন মামলা হয়নি। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনাটি সমাধানের শেষ পর্যায়ে।

Sharing is caring!

Loading...
Open