শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:: শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের অবস্থান নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। আর বাস্তবতাও কিন্তু সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। এ ব্যাপারে বাস্তবতা তুলে ধরলেন তিনি। তার মতে, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে সিলেট। আর এর পেছনে যে কারণ, তাও তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরে যথেষ্ট আক্ষেপও করেছেন। সিলেটের অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসাবে খ্যাত হাউজিং অ্যাস্টেট ও হাউজিং অ্যাস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি তার বক্তব্যে সিলেটের বড়বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এরপরই শিক্ষাক্ষেত্রে এই অঞ্চলের অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং বর্তমান পিছিয়ে পড়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এক সময় শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সিলেট অঞ্চল অনেক অগ্রসর ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। আর এই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন যথেষ্ট অবকাঠামো না থাকা। মানে, এ অঞ্চলে স্কুল-কলেজের সংখ্যা দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক কম। আর তাই শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেনা। ড. একে মোমেন বলেন, বর্তমানে ঢাকা অঞ্চলে ৫ শতাধিক কলেজ থাকলেও সিলেট বিভাগে আছে এর অর্ধেকের চেয়েও কম। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর বরিশাল ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের লোকসংখ্যা প্রায় সমান। অথচ শিক্ষা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চল প্রায় ৩গুণ পিছিয়ে। মানে সমসংখ্যক জনসংখ্যা সত্তে¡ও বরিশাল অঞ্চলে স্কুল-কলেজের সংখ্যা সিলেট অঞ্চল থেকে প্রায় ৩গুণ বেশি,এ থেকেই অনুমান করা যায়, শিক্ষায় কতটুকু পিছিয়ে সিলেট বিভাগ। অথচ গত ১০ বছর দেশের শিক্ষামন্ত্রী যিনি ছিলেন, তিনি সিলেট অঞ্চলের সন্তান। কিন্তু শিক্ষা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যে তিমিরে ছিলো সিলেট, সেই তিমিরেই পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে গুণগুণিয়ে সমালোচনাও শুরু হয় সভাস্থলে। তবে আশার বাণীও শুনিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেছেন, তিনি নিজে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন। স্কুল কলেজের সংখ্যা বাড়াতে তিনিসহ সরকার উদ্যোগী হচ্ছেন। তাদের উদ্যোগের অংশ হিসাবে সিলেটের দুই ঐতিহ্যবাহী কলেজ সিলেট এমসি কলেজ ও মদনমোহন কলেজকে ৮ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি কলেজকে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে আড়াই থেকে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আর সিলেট ১ আসনের ১২টি স্কুলের ভবন নির্মাণখাতে বড় অংকের অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি নিজে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সচেতন সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open