সিলেটে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নাম ঢেকে বাণিজ্য মেলার ব্যানার! জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের খেলার মাঠে লাগাতার মেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মেলার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। মেলা বন্ধে মামলাও হয়েছে একটি। তবুও মেলা কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। মেলা কর্তৃপক্ষ আদালতের সমন পাবার পরও কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো দেদারসে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সিলেটে বিভিন্ন সংঘঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তারা বিভিন্ন কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। এদিকে মেলা কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ের কোনো তোয়াক্কা না করে এবার তারা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অফিসের বিল্ডিংয়ের নাম ফলকে ৫ম আন্তর্জাতকি বাণিজ্য মেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সিলেট আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জানান- শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে এরকম কার্যালয়ের অফিসের নাম ফলকে এ রকম ব্যানার দেয়া মানে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে অবমাননা করা।

স্থানীয়দের অভিযোগে রোববার সকালে সরেজমিনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়- শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অফিসের বিল্ডিংয়ের নাম ফলকে ৫ম আন্তর্জাতকি বাণিজ্য মেলার অস্থায়ী কার্যালয় নামে একটি ব্যানার দিয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নাম ঢাকা রয়েছে। বিল্ডিংয়ের পাশে একই ভাবে আরো একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের ব্যানার রয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান- একটি চক্র ক‘দিন পর পর এই মাঠের জায়গায় মেলার আয়োজন করে তাদের ফায়দা হাসিল করে। তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোরবানী ঈদের সময় পশুর হাটের আয়োজন করে। তাদের সহযোগীতা করছেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীরা। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অফিসের বিল্ডিংয়ের নাম ফলকে মেলার অস্থায়ী কার্যালয় নামে ব্যানার দিয়েছেন যারা তারা শুধু শেখ পরিবারকে নয়, পুরো সিলেট আওয়ামী লীগ পরিবারকে অবমাননা করেছেন।

ব্যানারের সত্যতা স্বীকার করে ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান পাপ্পু বলেন- আগে ছিলো এখন কে, কারা লাগিয়েছে আমি দেখে জানাবো। ১০ মিনিট পরে তিনি জানালেন নাম ফলকে কোনো ধরণের ব্যানার নেই।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানান-শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে কার্যালয়ের অফিসের এরকম ব্যানার দিয়ে শেখ রাসেলের নাম ঢাকা মেলা কর্তৃপক্ষের ঠিক হয়নি। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বলেন- শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নিয়ে একটি চক্র তৈরী হয়েছে। যারা ক‘দিন পর পর এই মাঠের জায়গায় মেলার আয়োজন করে করে। পশুর হাটের আয়োজন করেন। এ নিয়ে আমরা বারবার প্রতিবাদ করেছি। তাই কিছু মানুষের দুশমনও হয়েছি। এই বিষয়টি দেখার কেউ নেই। তবে সত্য যে, খেলার মাঠে খেলা হতে হবে। কিন্তু এই মাঠে কোনো খেলার আয়োজন করা হয়না। এই শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম আজ ১০ বছর ধরে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের হাতে জিম্মি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাই শেখ রাসেলের নামের উপর ব্যানার লাগানো বঙ্গবন্ধু পরিবারকে অবমানার সামিল।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান- মেলা কর্র্তৃপক্ষ এরকম কাজ করা ঠিক হয়নি। শেখ রাসেলের নাম ফলকে কোনো ধরণের ব্যানার বা পোস্টার লাগানো মানে শেখ রাসেলকে অবমানা করা। এবিষয়ে আমি মেলা কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবো।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জানান, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মেলার আয়োজন করে জাতির জনকের সন্তান শহীদ শেখ রাসেলসহ জাতির জনকের পরিবারকেও অবমাননা করা হচ্ছে। ওই মাঠে গরুর বাজার হয়। মূলত এটা যে খেলার মাঠ তা সিলেটের মানুষ ভুলে গেছে। শেখ রাসেলের নাম ফলকে ব্যানার দিয়ে ঢাকা তাদের ঠিক হয়নি।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে খেলার বদলে মেলা আয়োজনের কারণে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার সিলেট নগরের খাসদবী এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ ইয়ারব আলী বাপ্পী। পাশাপাশি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মেলা বন্ধের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন তিনি। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানী শেষে বানিজ্য মেলার আয়োজকদের কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেন আদালত। এমনকি কারণ দর্শানোর জন্য সাতদিন সময়ও বেঁধে দেন সিনিয়র সহাকরী জজ সদর আদালত।
মামলায় বিবাদীরা হলেন- সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হাসিন আহমদ, মেলার সমন্বয়কারী ও সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য এমএ মঈন খান বাবলু, মোকাবিলা বিবাদী- সিলেট জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

Sharing is caring!

Loading...
Open