কোম্পানীগঞ্জে ট্রাস্কফোর্সের অভিযানে পাথরখেকোদের হামলা: বিজিবিসহ আহত ২৩, আটক ১

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৩ জন ট্রাস্কফোর্স অভিযানকারী আহত হয়েছেন। অভিযান চালানোর সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা ট্রাস্কফোর্সের উপর হামলা করে। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের লিলাই বাজার এলাকায় বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শেষ পর্যায়ে বিকাল ৩টায় পাথরখেকোদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র ট্রাস্কফোর্সের ওপর হামলা চালায়। তখন পাথরখেকো চক্র পাথর ছুড়তে থাকে। এসময় প্রাণ রক্ষার্থে বিজিবির সদস্যরা ২৩ রাউন্ড গুলি ও পুলিশ সদস্যরা ৩৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। পাথরখেকোদের হামলায় বিজিবি গোয়েন্দা বিভাগের নায়েক আব্দুর রহিম, সৈনিক হাসান মিয়া, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এসআই আমিনুল হক, সিপাহী রুহুল আমিন, ভূমি অফিসের চেইন ম্যান হেমায়েত হোসেন, ট্রাস্কফোর্স অভিযানে বোমা মেশিন ধবংস ও ভাংচুরের কাজে নিয়োজিত লেবার মোবারক, মিজান, আলী হোসেন, আলমগীর, ইব্রাহিম, শাহিন সহ আরও ১০-১২ জন আহত হন। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার উপরও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। তবে- তিনি তেমনভাবে আহত হননি। এসময় ঘটনাস্থল থেকে কালাইরাগ গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে পাথর শ্রমিক সোহেল মিয়া (২১) কে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। আটকের পর তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্র জানায়, ট্রাস্কফোর্সের ওপর হামলায় স্থানীয় কলাবাড়ী গ্রামের বিল্লালের নেতৃত্বে শাহাব উদ্দিন, আলিম উদ্দিন, তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লা, কালাইরাগ গ্রামের আজিজ, রইছ উদ্দিন, লালু মিয়া সহ নাম না জানা অনেকেই জড়িত ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে জড়িত, তারাই হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহ করছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, হামলাকারী পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। হামলার সাথে জড়িত কাউকেই কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত রবিবার কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদী, ভোলাগঞ্জ গুচ্ছ গ্রাম, কালাইরাগ লাল পাথর ও কালাইরাগ নয়াবাজার এলাকায় অবৈধভাবে বোমা মেশিন নামক দানবযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে ট্রাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ১৫টি বোমা মেশিন, ৩টি লিস্টার মেশিন ও প্রায় ৫’শ ফুট প্লাস্টিক পাইপ ভাংচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এর ক্ষোভে পাথরখেকোরা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আজ ফের উপজেলা প্রশাসনের ট্রাস্কফোর্সের অভিযান চলাকালে পাথরখেকোরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open