আশ্বাস নিয়ে ক্লাসে ফিরছে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

সুরমা টাইমস ডেস্ক :: অভিভাবকদের ডেকে অপমানের জেরে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার পর আন্দোলনে থাকা ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র আনুশকা রায় ছাত্রীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা শুক্রবার থেকে ক্লাসে ফিরবো।

তিনি আরো জানান, শিক্ষকরা তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি আইনি বিষয়গুলো আইনের মাধ্যমে সমাধানেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া শুক্রবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে সব শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানায় আনুশকা।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী।

এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ভিকারুননিসার বেইলি রোডের ক্যাম্পাস। বুধবারও চলে আন্দোলন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে তাকে শাস্তি প্রদানসহ ছয় দফা দাবি জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালেও ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ শুরু করে।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট। তবে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তাদের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টিও কার্যকর দেখতে চায় তারা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দাবিগুলো পূরণ না হলে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিকারুননিসা গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে অরিত্রির বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই। প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে আমার পদত্যাগের প্রয়োজন হলে আমি করবো।’

এর আগে অরিত্রি অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ অভিযোগ তার বাবার করা মমালায় বুধবার রাতে উত্তরা থেকে অরিত্রির শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসনা হেনাকে ঢাকা মুখ্য নগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় করা ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় হাসনা হেনার পাশাপাশি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরাকে আসামি করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুধবার সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়।

তার আগে বুধবার দুপুরে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রীকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open