অরিত্রীর আত্মহত্যা: কারাগারে শিক্ষিকা হাসনা হেনা

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বরখাস্ত শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায় ঢাকা মুখ্য নগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়েছে। ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। মামলার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

আদালতের হাজত খানার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোতালেব হোসেন জানান, শিক্ষিকার আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করলেও রিমান্ডের আবেদন করেনি পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বুধবার রাতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা।

হাসনা হেনাকে গ্রেফতারের বিষয়ে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীর ভাষ্য, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আনা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছে, আমার কাজ হলো কোনো মেয়ে যদি ঝামেলা করে তাহলে তার বাবা-মাকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে দাঁড় করানো। এ ক্ষেত্রে মোবাইল পাওয়ায় আমি তাই করেছিলাম।এ ছাড়া আমার কোনো দায় নেই। অরিত্রির বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। অধ্যক্ষ আমাকে যা বলেছেন আমি তাই করেছি।

গত সোমবার শান্তিনগরের বাসায় আত্মহত্যা করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখাপ্রধান ও এক শ্রেণিশিক্ষককে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

Sharing is caring!

Loading...
Open