তাহিরপুরে লাউড় রাজ্যের খনন কাজে স্বার্থবাদী মহলের বাধা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল(উওর)ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটিতে প্রায় ৩০একর জায়গা জুড়েই সুপ্রাচীন কালে লাউড় রাজ্যের রাজধানী ও রাজবাড়ি ছিল। স্বার্থনেশী মহল অনেক পূর্বেই এর অনেকাংশই লুটে নিয়ে দখল করে জমি বিক্রি করেছে। এখন খনন কাজের শ্রমিকদের কাজে বাধাঁ দিচ্ছে ঐ স্বার্থবাদী মহল। তারা সুকৌসলে যারা এখন বসবাস করছে তাদেরকে ভুল ভুজিয়ে নানান ফন্ধি করছে। আর সরকারী কাজে বাধা দেওয়ায় এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তুলপার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী ভাবে খনন কাজের শ্রমিকদের সহায়তা করায় স্থানীয় মেম্বার আব্দুর রউফকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে ঐ সংবদ্ধ স্বার্থবাদী মহল। এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওর্য়াডের মেম্বার আব্দুর রউফ বলেন,আমি এই ওয়ার্ডের মেম্বার সরকারী কাজ তাই শ্রমিকদের কাজে সহয়োগীতা করছি কিন্তু এই এলাকার কিছু সন্ত্রাসী আমাকে গত ১৮তারিখে স্থানীয় একতা বাজারে বসা ছিলাম তখন জুনাব আলী,ইদ্রিস আলী,নুর ইসলাম,ডাঃ মাসুক মিয়াসহ তাদের সহযোগীরা আমাকে এসে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়। তাই আমি বিচার প্রার্থী হয়ে তাহিরপুর থানার একটি অভিযোগ দাখিল করেছি।

হলহলিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম আকাশসহ স্থানীয় বাসিন্দাগন জানান,লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি প্রকৃতপক্ষে ছিলো রাজবাড়ি। এটি খনন করে জনসম্মুখে প্রকৃত অবঅব প্রকাশিত হলে এই এলাকার সুনাম বাড়বে। এই নির্দশন থেকে আমরা অনেক কিছুই জানতে ও শিখতে পারব। সেই সাথে এখানে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাবে। আমাদেরই লাভ হবে। আমরা চাই যত দ্রæত সম্ভব এই খনন কাজ শেষ করা হইক। আর যারা এই খনন কাজে বাঁধা দিচ্ছে আর দিতে চাইছে তাদের বিরোদ্ধে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)নন্দন কান্তি ধর জানান,কাজে বাঁধা দিচ্ছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি যারা কাজে বাধাঁ দিয়ে আইন আনুযায়ী তাদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও ঐ এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

প্রাচীন নিদর্শন,ইতিহাস সম্পর্কে জানা,পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ওই খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন নেই এখানে বসবাসকারী কাউকে উচ্ছেদের কোন চিন্তাই নেই সরকারের স্থানীয় কিছু লোক বাসবাকারীদের ভুল বোঝিয়ে বিশৃংখলা তৈরী করছে। আমি সবাইকে বলেছি তারা উচ্ছেদের বিষয়ে কোন চিন্তাই না করে। তারপরও তারা খনন কাজে বাঁধা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব। তিনি আরো জানান,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ১২০০পর মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী হলহলিয়া দ‚র্গ ও ব্রাহ্মনগাঁওয়ের গৌর গোবিন্দের রাজবাড়িটি এই এলাকার জন্য সুনাম। এই খননের মধ্য দিয়ে লাউড় রাজ্যের ব্যাপারে নতুন অনেক কিছু উন্মোচন হতে পারে।

উল্লেখ্য,লাউড় রাজ্যের চতুসীমা ছিল পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ,পূর্বে জৈন্তিয়া,উত্তরে কামরুপ সীমান্ত ও দক্ষিণে বর্তমানে ব্রাম্মণবাড়িয়া পর্যন্ত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি প্রকৃতপক্ষে ছিলো রাজবাড়ি। তৎকালীন রাজা বিজয় সিংহ এই রাজবাড়িটি ৩০একর জমির ওপর প্রায় ১২০০বছর পূর্বে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মিত এই রাজ বাড়িটিতে ছিল বন্দীশালা,সিংহদ্ধার,নাচঘর,দরবার হল,পুকুর ও সীমানা প্রাচীর যার কিছু অংশ ১২০০বছর পরেও এখনও দৃশ্যমান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছু স্বার্থনেশী মহল এর অনেকাংশই লুটে নিয়েছে। দখল করেছে জমি। পরে এই বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের(পিএসসি) চেয়ারম্যান ডঃ মোহাম্মদ সাদিক ২০১৬সালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রত্নত্বত্ত বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুনামগঞ্জের এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত আবেদন জানান। যার ফল শ্রুতিতে ২০১৭সালের ২০নভেম্বর ও ২১নভেম্বর পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্বত্ত বিভাগের দুজন শিক্ষক ও একদল শিক্ষার্থী গবেষক অধ্যাপক ডঃ অসিত বরণ পালের নেতৃত্বে এই হাওলি রাজবাড়ি সংরক্ষণ ও খননের লক্ষ্যে প্রাথমিক মাঠ জরিপ কার্য পরিচালনা করেছিলেন। এরপর গত বুধবার(১৪,১১,১৮ইং)দুপুর থেকে দুই মাসব্যাপি চলবে উৎখন কাজের উদ্ভোধন করেন সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান ও প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ডঃ মুহাম্মদ আতাউর রহমান। এ সময় ৯সদস্য বিশিষ্ট টিমে রয়েছেন ঢাকা প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাহবুবুল আলম,কুমিল্লা ময়নামতি যাদুঘরের কাস্টেডিয়ান ডঃ আহমেদ আব্দুল্লাহ,সহকারী কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান,কুমিল্লা প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তরের সিনিয়র ড্রাফটম্যান সিরাজুল ইসলাম,জালাল আহমেদ,আলোকচিত্রকর নুরুজ্জামান মিয়া,রেকর্ডার ওমর ফারুক পাঠোয়ারী,অফিস সহায়ক লক্ষন দাস ছিলেন। এর মাধ্যমে প্রাচীন নিদর্শন,ইতিহাস সম্পর্কে জানা,পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ওই খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open