পরিচয় মিলেছে সেই হেলমেটধারীর

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে হেলমেট পরে লাফানো যুবকেরও পরিচয় মিলেছে। তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক জাহিদুজজ্জামান শাওন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষের দিন শাওনের হেলমেট পরা ছবি যেমন আছে, তেমনি হেলমেট পরার আগে এবং সেটি খুলে ফেলার পরের ছবিও আছে। আর এতে তার চেহারাও পুরোপুরি স্পষ্ট।

গত বুধবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ছবি আসে। আর একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় যে যুবকের ছবি আসে, তিনি পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজালাল খন্দকার (কবির)। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরদিনও বিএনপি দাবি করেছিল, আগুন দেয়া যুবক এবং হেলমেটধারীরা তাদের দলের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন। তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য।

কিন্তু সেদিনের ঘটনার ভিডিও চিত্র এবং স্থিরচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের সবাই বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী।

সংঘর্ষের সময় সাদা হেলমেট, কালো শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা অবস্থায় ছিলেন শাওন। ভাঙচুর শেষে শার্টের বোতাম খুলে তিনি পোজ দিচ্ছিলেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে এলএলবিতে পড়াশোনা করছেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী। বর্তমানে বসবাস করেন ধানমন্ডির শংকরে।

উপরোক্ত দুই জন ছাড়াও সেদিন ছিলেন মো. মহসিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ নামে দুইজন, যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আরও ছিলেন শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি সেদিন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মিছিল করে আসেন এবং সেই ছবিও পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ৩০ জনকে। যদিও গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ৬৮ জন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস ঢাকা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। তাদের মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল নেতা শাওন সোহাগ সহ আরো অনেকেই। গাড়িতে আগুন দেওয়া ভাঙ্গচুর সহ ওই হামলায় বিভিন্ন ভূমিকা রেখেছিলেন তারা। তাদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে।’

সংঘর্ষের পর পুলিশ শাহজালালের ছবিটি প্রচার করে তার পরিচয় জানানোর আহ্বান জানায়। আর আগেই এই ছাত্রদল নেতার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। বিএনপি তাকে গুলশান থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু বলে পরিচয় দেয়। তবে গুলশান থানা ছাত্রলীগে অপু নামে কোনো নেতা নেই এবং প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিথুন লাইভে এসে তাদের নামে অপপ্রচারে কান না দিতে বলেন। আর এর মধ্যেই শাহজালাল তার ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেন।-ঢাকাটাইমস

Sharing is caring!

Loading...
Open