জামায়াত নয়, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের ১১টি ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে যেকোন বিএনপি নেতাকে মনোনয়ন প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

এই আসনটি বিএনপি জামায়াত ইসলামকে ছেড়ে দিতে পারে এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি জানান তাঁরা।

গত কয়েকদিন ধরেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন বলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলাস্থ একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আসনের বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার হচ্ছে বিএনপির ঘাটি। এই দুই উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নেই দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান। আর এজন্যই এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত।

দুই উপজেলার চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১নং আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন এমন দাবি জানান। এসময় উপস্থিত চেয়ারম্যান ও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি’র মহাসচিব, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ এবং ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করছি আমরা। আজ জাতীয় একটি গণমাধ্যমে দেখলাম সিলেট-৬ আসনে বিএনপি দলীয় কোন প্রার্থী না দিয়ে ২০ দলীয় জোটের অনুকূলে সিলেট-৬ আসনটি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত এবং হতাশ করেছে। বিগত দিনে এরূপ ছাড়ে দল হিসেবে বিএনপি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করে শত প্রতিকূলতার মধ্যে সংগঠনের কাজ করে চলেছি এবং এই কাজ করতে যেয়ে আমাদেরকে নানা হয়রানিমূলক মামলা, নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সাধারণ মানুষ আমাদের প্রতি বার বার তাদের সমর্থন ব্যক্ত করায় আজ এ দুটি উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আমরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এতসবের পরও আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের এলাকায় অনেক যোগ্য লোক থাকা সত্ত্বেও প্রতিবারই ভাড়াটে লোক আনা হচ্ছে এবং এরা বিপুল ভোটে পরাজয় স্বীকার করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সংসদীয় আসন সিলেট-৬ থেকে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর ধানের শীষের পক্ষে নিরলস কাজ করতে আমরা অধির আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি, বিএনপিকে ধ্বংস করতে আজ অনেকেই চেষ্টা করছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে কায়েমী স্বার্থবাদী দলের কোন একজনকে সেখানে প্রার্থী করার চেষ্টা করছে অথচ এরাই কিছু দিন আগে সিলেট সিটি নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজ দলের প্রার্থী দিয়েছে।

উপস্থিত চেয়ারম্যানদের পক্ষে দেয়া বক্তব্যে মামুনুর রশীদ মামুন আরোও বলেন, ‘বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের কাছে উদাত্ম আহবান নির্বাচনে অংশগ্রহণকে সার্থক করে তুলার জন্যে, এলাকার জনগণের স্বার্থে এবং বিএনপিকে রক্ষার জন্যে সিলেট-৬ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবার জন্যে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন শুধু বাধাগ্রস্তই হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জোরালো ভাবে বলা হয়, বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে আমরা সিলেট-৬ আসনটি খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবেন তারা।

বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা জানান, তাদের দাবির সাথে পূর্ণসমর্থন জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নছিরুল হক শাহীন, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিলাল উদ্দিন এবং তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও উপস্থিত ছিলেন কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এফ এম আবু তাহের, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নোমান উদ্দিন মুরাদ, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরী, পশ্চিম আমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহেল আহমদ, প্যানেল চেয়ারম্যান (২) আবদুল গফফার কুটি, লক্ষণাবন্দ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজু আহমদ, শরীফগঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মুছব্বির। এছাড়া দুই উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open