নির্বাচন পিছিয়ে দিতে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি


সুরমা টাইমস ডেস্ক : : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল একমাস পিছিয়ে দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার (১১ নভেম্বর) ইসিতে চিঠিটি পাঠান ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট গণতন্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন যে তফসিল দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট জানায়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তবে নির্বাচনের শিডিউল পেছাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সবসময় আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে এক্যফ্রন্ট সরকারকে চিঠি দিয়ে সংলাপে আহ্বান জানায়। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দলের আমন্ত্রণে ১ ও ৭ নভেম্বর গণভবনে দুই দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে এই সংলাপে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বর্তমানের গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথে ন্যূনতম সমঝোতা করার মানসিকতা আমরা দেখতে পাইনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ৭ দফা দাবি আমরা সরকারের কাছে পেশ করেছিলাম, সেগুলোর প্রায় সবগুলোই তারা নাকচ করেছেন। এমনকি বর্তমান সংবিধান সংশোধন না করেও যে দাবিগুলো পূরণ করা যায়, তার প্রায় সবগুলোর ব্যাপারে তারা কোনো আশ্বাস তো দেনইনি, উপরন্তু সেগুলোর কয়েকটিকে সংবিধান বহির্ভূত বলেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।

দুই দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিরোধীদের সভা-সমাবেশ করার ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং গায়েবি মামলাসহ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি ও ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা না দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই আশ্বাসের পর ঐক্যফ্রন্টের দুইটি জনসভা হয়েছে— একটি ঢাকায় ও একটি রাজশাহীতে। দুইটি জনসভারই লিখিত অনুমতি দিতে দেরি করে এবং সরকারি মদতপুষ্ট পরিবহন সংকট তৈরি করে মানুষের জনসভায় অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। রাজশাহীতে জনসভা হওয়ার দু’দিন আগে থেকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি রাজশাহীর সঙ্গে আশপাশের অনেক জেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সাত দফা দাবি থেকে আমরা সরে আসছি না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার দাবি।

আমরা নির্বাচনের বর্তমান তফসিল বাতিল করে একমাস পিছিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। সে ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে। এসময় ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই বার তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।

ড. কামাল হোসেন বলেন, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণের প্রতি ঐক্যফ্রন্ট কড়া নজর রাখবে। জনগণের দাবি মানা না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open