সিলেটের ছয়টি আসনে আ.লীগের মনোনয়ন কিনলেন যারা

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মোট ১৩ মনোনয়ন প্রার্থী। এর মধ্যে একজন আবার দুই আসনের জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন।

শুক্রবার (৯ই নভেম্বর) সকাল থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সকালে দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ফরম কিনে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রির সূচনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মনোনয়ন বিক্রির প্রথম দিন সিলেট জেলার মোট ৬ টি আসনে ১৪ টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তাদের প্রায় সবাই দলের জন্য তাদের বিগত দিনের ভূমিকার কারণে মনোনয়ন পাবার ক্ষেত্রে নিজেকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখছেন। এক নজরে দেখে নেয়া যাক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহকারী প্রার্থী কারা-

সিলেট-১

সিলেট মহানগর এবং সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনকে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন মনে করা হয়। একটি মিথ রয়েছে এই আসনে জয়ী ব্যাক্তি ও তার দলই সরকার গঠন করে। তাই সকল দলের কাছে এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই তাদের হেভিওয়েট প্রার্থীকে এখানে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এ আসনটির জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চারজন। এর মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, অর্থমন্ত্রীর ছোটভাই ও সাবেক রাষ্ট্রদূত একে আব্দুল মোমেন, সাবেক সচিব ও নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

এদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী বিগত দুইবার এ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ। এবার তিনি প্রথম থেকেই নির্বাচনে লড়বেন না বলে জানিয়ে আসছেন। তবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘মনোনয়ন দাখিল করবো, তবে নির্বাচনে দাঁড়াবো না।’ ধারণা করা হচ্ছে নিজের ছোটভাই একে মোমেনকে এই আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর সহোদর ছাড়াও এ আসনের জন্য আওয়ামী লীগে শক্ত প্রার্থী দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি দুটি আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও তার মূল টার্গেট সিলেট-১। তবে এ ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর মতামতই শেষ কথা বলে জানান মিসবাহ। তিনি বলেন, আমি দুটি আসনে মনোনয়ন চাইছি, যেখানে মনোনয়ন দেবেন সেখানে নির্বাচন করবো। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তবে মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করবো।

সিলেট-২

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানী নগর) আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী। এই আসনটিতে ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন শফিকুর রহমান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও একই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। পরে মহাজোট প্রার্থীকে ছেড়ে দেবার দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি। এবারও মনোনয়ন পাবেন বলেই আশা করেন সাবেক এই সাংসদ।

সিলেট-৩

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ সংসদীয় আসন। এ আসনে এখন পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।

সিলেট-৪

সিলেটের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ মিলিয়ে সিলেট-৪ আসন। এ আসনে বর্তমান সাংসদ ইমরান আহমদ ছাড়াও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আরো তিনজন। এদের মধ্যে রয়েছেন- গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলুল হক। গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ।

সিলেট-৫

জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে নির্বাচনী আসন সিলেট-৫। এই আসনে বিগত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। তবে শেষ মুহূর্তে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তিনি। এবারও তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন এবং তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সিলেট-৬

সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসাইন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটিতে মনোনয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সরওয়ার হোসাইন।

আলাপকালে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই আসনে পরিবর্তন চাইছেন। আমিও দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। আশা করছি মনোনয়ন পাবো, তবে যদি দল থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় সেক্ষেত্রে দলীয় সিদ্দান্ত মেনে নেবো।

Sharing is caring!

Loading...
Open