জঙ্গি অর্থায়নে এনজিও……..

বাংলাদেশে নন-গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন (এনজিও) অর্থাৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রায় সবাই অবহিত। তাদের নীতিমালা ও কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে যত মতান্তরই থাকুক, বেসরকারি পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একপর্যায়ে কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল, সেটি এখন আর প্রবল নয়। পরের ধাপে, বিশেষত চারদলীয় জোট সরকারের সময় একটি ঘরানার এনজিওর বিরুদ্ধে ধর্মের আবরণে প্রগতি ও উন্নয়নবিরোধী, নারীর ক্ষমতায়নবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। তাদের এ কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত জঙ্গি সহায়তার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো মূলত জামায়াত ঘরানার। বৈদেশিক সহায়তা তারা উন্নয়নবিরোধী কাজে ব্যবহার করেছে এবং এখনো করছে। সহায়তার অর্থ ব্যক্তিগত লাভের কাজেও লাগাচ্ছে কেউ কেউ।

জঙ্গি অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সংশ্লিষ্টতা এখনো রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সাম্প্রতিক সময়ের অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত আট ব্যক্তির গ্রেপ্তার হওয়া তার প্রমাণ। তাদের বিরুদ্ধে সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ, জঙ্গি অর্থায়ন ও অর্থপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মূলত বাংলাদেশ চাষি কল্যাণ সমিতির নামে এসব কর্মকাণ্ড চলছিল। আরো দুটি প্রতিষ্ঠান জড়িত। সিআইডির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি অর্থ-সহায়তা নিজ ঘরানার রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সহযোগিতা এবং জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই সমিতির অ্যাকাউন্টে বিদেশি অনুদান হিসেবে মোট ৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জমা হয়। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জামায়াতে ইসলামীর একজন সাবেক নায়েবে আমির। গঠনতান্ত্রিকভাবে ও নিবন্ধন অনুযায়ী এনজিও হলেও এর যাবতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হতো। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সমিতির কম্পিউটার ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ছড়ায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনের জামায়াতের সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদও এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

জঙ্গি অর্থায়নে ইসলামপন্থী, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু এনজিও জড়িত—এ অভিযোগ বহু পুরনো। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে প্রচারণার সঙ্গেও যুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তোলা হয়েছে অনেকবার। কিন্তু সরকারের সক্রিয়তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় লক্ষ করা যায়নি। সিআইডির তথা সরকারের সাম্প্রতিক সময়ের অভিযান প্রশংসনীয়। আরো সংহত প্রক্রিয়ায় এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো দরকার। রাষ্ট্র ও উন্নয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য এদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাই শ্রেয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open